সমালোচিত ইসলামী দুই বক্তার যত মিথ্যাচার, ইসলামী আলোচনার নামে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ

মুফতি আমির হামজা ইসলামী আলোচনার নামে ভারতের আলোচিত দক্ষিণী অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানাকে নিয়ে ভিবন্ন কিচ্ছা কাহিনী বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে তার বক্তব্য ঘিরে তুমুল সমালোচনা হয়।

তিনি বলেন, এখন বিশ্বে যত সুন্দর মানুষ আছে, আপনারা ইন্টারনেট ঘাঁটবেন-১৫৭ রাষ্ট্রের মধ্যে চেহারার কাটিংয়ে ১ নম্বরে রয়েছেন রাশমিকা মান্দানা। নাম শুনেছেন? চেহারার কাটিংয়ে এখন ১ নম্বরে আছেন। এই মহিলার দিকে একটু আল্লাহর নাম নিয়ে তাকাবেন। দেখেন তো কী সুন্দর করে আল্লাহ তাকে বানিয়েছেন।

সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি জাহাঙ্গীরনগরে প্রথম ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলাম। সেখানে দেখেছি, সকাল বেলা কুলি করছেন ছাত্ররা মদ দিয়ে। ছাত্র পেটাচ্ছে শিক্ষককে। এই সব মিথ্যা গল্প বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন, তাদের মাহফিলে ইসলামী আলোচনা পুরোপুরি অনুপস্থিত। তারা নিজেদেরকে সেলিব্রিটি বানাতে ব্যস্ত বেশী, তাই ইসলামের নামে অপব্যাখ্যা দিয়ে নিজেদেরকে আলোচনায় সমালোচনায় রাখতে বেশি পছন্দ করেন। শুধু তাই নয় তাদের অঙ্গভঙ্গি রসিকতা, যাত্রা পালা, সার্কাস সিনেমার ভাঁড় ও জোকারদের হার মানায়। তাদের অতি কথন, গানের টান, জিকিরের স্টাইল দূর থেকে যে কারো কাছে কোন শিল্পীর কনসার্ট মনে হবে।

আরেক সমালোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা তারেক মনোয়ার বলেন, আমি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছি, আমি হেলিকপ্টারে যাই না,হেলিকপ্তার হেলথের জন্য ক্ষতিকর তাই আমি রকেটে চড়েছি, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে অনেক দিন লেকচার দিয়েছি, কিন্তু ঘরের মানুষও জানে না। আরও বলে, আমি প্রিমিয়ার লীগে কত খেলেছি, টাকা দিয়েও মানুষ আমাকে নিয়ে গেছে… পৃথিবীতে সবচেয়ে পয়সাওয়ালা বেলগ্রেট, আইফোনের মালিক। দেখা হয়েছে আমার সাথে… আমার কাছে মনে হয়েছে টিকটিকি। তিনি সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বিল গেটসকে বুঝিয়েছেন।

যদিও প্রকৃতপক্ষে বিল গেটস আইফোনের উৎপাদনকারী কোম্পানি অ্যাপলের মালিক নন। অন্য আরেকটি ওয়াজে তারেক মনোয়ারকে বলতে শোনা যাচ্ছে, আমি অক্সফোর্ডে তিনবার শ্রেষ্ট টিচার হয়েছি, আজকেই বলে ফেললাম। এটা কেউ জানে না.. আমার পরিবারও জানে না। অক্সফোর্ডের সিলেবাসে ইংল্যান্ড আমেরিকার স্কুলগুলো চলে।” তিনি আরও জানান, ১৯৯০ সালে তিনি ‘বেস্ট টিচার’ হয়েছিলেন।

এছাড়াও ভাইরাল হওয়া অপর একটি ভিডিওতে তারেক মনোয়ার নিজেকে নব্বইয়ের দশকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের ফুটবলার দাবী করে বলেন ‘ভালো খেলতাম.. অনেক ভালো খেলতাম…তিন চারটা গেইম তো খুব ভালো খেলতাম। ঢাকার চ্যাম্পিয়নশিপ পুরষ্কারও আছে আমার ব্যাটমিন্টনে।’ তারেক মনোয়ার আরও বলেন, “ফুটবল….ইংল্যান্ডে গিয়ে লীগে (ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ) খেলেছি। ১৯৯০ সাল..অত্যন্ত কম বয়স।পয়সা দিয়ে নিয়ে যেত খেলার জন্য। ভালোই ইনকাম… শেষে দেখি যে পুরাটা হারাম।

অন্য আরেক ভিডিওতে দেখা গেছে তিনি দাবি করছেন, ১৯৯০ সালে তিনি ইংল্যান্ডের ব্রাইটন ইসলামিক সেন্টারের খতিব ছিলেন। সে সময়ে তিনি একজন ব্রিটিশ মডেলকে ইসলাম গ্রহণ করান বলেও দাবি করেন। ইসলাম প্রচারের নামে তারা দিনের পর দিন সাধারণ মানুষকে এসব মিথ্যা কিচ্ছা কাহিনী শুনাচ্ছে তাই সাধারণ মানুষ অবিলম্বে তাদের এসব মিথ্যা কাহিনী বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে।

মোঃ জসিম উদ্দিন (লেখক প্রবাসী সাংবাদিক, নিউ ইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *