Category: মতামত

  • আওয়ামী গডফাদার – মানুষ পুরোনো রাজনীতিতে ফিরতে চায় না

    আওয়ামী গডফাদার – মানুষ পুরোনো রাজনীতিতে ফিরতে চায় না

    যেকোনো কর্তৃত্ববাদী শাসন ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে টিকে থাকে। কর্তৃত্ববাদী শাসন আর স্বজনতোষী পুঁজিবাদ কীভাবে হাত ধরাধরি করে চলে, তার একটা ধ্রুপদি উদাহরণ হয়ে থাকবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসন। কোনো ধরনের গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও সুশাসনের তোয়াক্কা না করে কেন্দ্রে যেমন এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, একইভাবে প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও সংসদীয় এলাকায় এক ব্যক্তি কিংবা এক পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল গডফাদারভিত্তিক ব্যবস্থা।

    ক্ষমতাতন্ত্রের সঙ্গে থাকা এসব নেতা যেমন দুর্নীতি, অপকর্ম, দখল ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমনভাবে সম্পদের মালিক হয়েছেন, যেন তাঁরা তাঁদের হাতে আলাদিনের চেরাগ পেয়েছিলেন। কেউ কেউ এ সম্পদের বড় একটি অংশই পাচার করে দিয়েছেন। নিপীড়নকে তাঁরা রীতিমতো শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। শুধু বিরোধী দল নয়, নিজের দলের লোকদের দমন-পীড়ন করেই তাঁরা ক্ষমতায় টিকে ছিলেন।

    দলীয় কমিটি ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়নকাজের বড় কমিশন আদায় এবং জমি দখলের মাধ্যমে কেউ কেউ গডফাদারদের গডফাদার হয়ে উঠেছিলেন। বরিশালে এমন একজন নেতা পুরো বিভাগে ১২ জন দলীয় গডফাদার তৈরি করেছিলেন।

    আওয়ামী লীগের গডফাদারদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠছে, তার সবই গুরুতর অপরাধ। ক্ষমতার অপব্যবহার ও ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এসব লোক ছিলেন জনগণের সম্পদ লুণ্ঠনকারী ও নিপীড়ক চরিত্রের। প্রায় প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের জমি জোর করে দখলের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের অত্যাচারে অসংখ্য মানুষকে ঘরছাড়া হতে হয়েছে।

    সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নতুন একটি জন-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, মানুষ আর পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরতে চায় না। একের পর এক বিতর্কিত ও কারসাজির নির্বাচনই ছিল আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী শাসনের মূল রক্ষাকবচ। সংবিধান, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, পুলিশ, আমলাতন্ত্র ও দুদকের মতো প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেই তারা এটা করেছিল।

    অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি প্রতিষ্ঠান সংস্কারে কমিশন করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও সংলাপ শুরু করেছে। পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত থেকে বেরিয়ে এসে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তে পৌঁছাতে হলে প্রধানভাবেই রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা ও ঐকমত্য প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজ নিজ দলের মধ্যে নেতৃত্ব বাছাই থেকে শুরু করে সব জায়গায় গণতন্ত্র ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা না করে, তাহলে কোনো সংস্কারই টেকসই হতে পারে না।

  • শেরপুরের বন্যা-ভুক্তভোগী মানুষের পাশে দাঁড়ান

    শেরপুরের বন্যা-ভুক্তভোগী মানুষের পাশে দাঁড়ান

    গত দুই মাসে একের পর এক বন্যার কবলে পড়ল দেশ। সিলেটের একাংশ ও পূর্বাঞ্চলের বন্যার ক্ষত এখনো শুকায়নি। এরপর দেখা গেল উত্তরবঙ্গে রংপুর–কুড়িগ্রামের বন্যা। আর এখন ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত হলো ময়মনসিংহ অঞ্চল। সেখানে টানা ভারী বৃষ্টি ও ভারতের পানির ঢলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার অনেক এলাকা। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে কয়েক শ গ্রাম। মারা গেছেন কয়েকজন। মানুষের দুর্ভোগের সীমা নেই। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি–বেসরকারিভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এখন জরুরি।

    প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গত বৃহস্পতিবার ভোগাই, চেল্লাখালী, নেতাইসহ অন্যান্য নদ–নদীর পানি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে নদ–নদীগুলোর সঙ্গে বাঁধ ভেঙে পানি উপচে পড়ে। ফলে ময়মনসিংহ ও শেরপুরের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়। বিশেষ করে আকস্মিক ঢলের কারণে অবর্ণনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমন বন্যার কবলে পড়তে হবে, তা মানুষের কল্পনার বাইরে ছিল। প্রস্তুতি না থাকায় এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তাঁরা। দুর্গম ও পাহাড়ের কাছাকাছি এলাকায় থাকা সমতলের জাতিগোষ্ঠীগুলোর অবস্থাও শোচনীয়।

    শেরপুরের নালিতাবাড়ী নয়া‌বিল ইউনিয়নের বয়স্ক বাসিন্দারা বলছেন, নদীতে এত পানি তাঁরা আগে কখনো দেখেননি। আটাশির বন্যার চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবার। বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে দুর্গত এলাকাগুলোতে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। পরিচিতদের বাসাবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। পা‌নিব‌ন্দী মানুষ‌কে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ প‌রিচালনায় ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হ‌য়ে‌ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার তরফ থেকে শুকনা খাবারের প্যাকেট ও খাওয়ার পানি দেওয়া হচ্ছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষার্থীরাও ত্রাণসহায়তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

    আশা করি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসন সম্মিলিতভাবে বন্যা ও বন্যা–পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেষ্ট থাকবে।

  • ব্যাংকঋণের সুদহার কমলেই কি বিনিয়োগ বাড়বে

    ব্যাংকঋণের সুদহার কমলেই কি বিনিয়োগ বাড়বে

    ব্যাংকঋণের সুদহার বেশি, সে কারণে দেশে বিনিয়োগ বাড়ছে না বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। ইতিমধ্যে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স ডিসেম্বরের পর সুদহার কমানোর দাবি তুলেছে। কিন্তু কথা হচ্ছে, ব্যাংকঋণের সুদ কমলেই কি বিনিয়োগ বাড়বে? একসময় দেশে সুদহার নয়-ছয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। তখনই-বা কতটা বিনিয়োগ হয়েছে?

    বিনিয়োগ বা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজন অর্থায়ন। বাংলাদেশের বাস্তবতায় ব্যাংকই এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের মূল ভরসা। পুঁজিবাজার আছে, কিন্তু তা এখন পর্যন্ত বিনিয়োগের মূল উৎস হতে পারেনি। অর্থায়নের অন্যান্য উৎসও সে রকম শক্তিশালী কিছু নয়। সে জন্য বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকের সুদ নিয়ে এত উচ্চকণ্ঠ।

    ব্যাংকঋণের সুদহার বাড়লে ব্যবসায় ব্যয় বেড়ে যায়। এত দিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতি সুদহার বাড়তি থাকায় বিনিয়োগে প্রভাব পড়েছে, তা সত্য। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় দেখা যায়, বিনিয়োগ শুধু ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীল নয়; অন্য আরও অনেক কিছুর সঙ্গে তার যোগ আছে।

    ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে ঋণের সুদহার বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক; এই নীতি নয়-ছয় হিসেবে পরিচিত। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকে। তখন বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়াতে শুরু করে। ফলে নয়-ছয় নীতি আর বাস্তবসম্মত থাকেনি। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক নয়-ছয় নীতি থেকে সরে আসে।

    ২০২৩ সালের জুলাই মাসের শুরুতে ব্যাংকঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ছিল ৯ শতাংশ। এখন তা বেড়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাড়ে ১৪ শতাংশ হয়েছে। সব ব্যাংকের ঋণের গড় সুদহারও বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২০ সালের জুলাই মাসে ব্যাংকঋণের গড় সুদহার ছিল ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। চলতি বছরের জুলাই মাসে তা বেড়ে হয়েছে ১১ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

    বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ অনেক দিন ধরেই ২৩ থেকে ২৪ শতাংশের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। নয়-ছয় নীতি চালুর পরও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়েনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুসারে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপির সাপেক্ষে বেসরকারি বিনিয়োগের অনুপাত ছিল ২৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ছিল ২৪ দশমিক ১৮ শতাংশ; ২০২১–২২ অর্থ বছরে ছিল ২৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, ২০২১–২২ অর্থ বছরের পর টানা দুই অর্থ বছরে বিনিয়োগ কমেছে। এই সময় বাংলাদেশ করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে শুরু হয় রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ। বেসরকারি বিনিয়োগে যে এসব ঘটনার প্রভাব ছিল, তা বলাই বাহুল্য।

    ২০২০ সালে সারা বিশ্বে করোনা মহামারি শুরু হয়। সে বছরেই নয়-ছয় নীতি প্রণয়ন করা হয়। সে বছর জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ হয় ২৩.৭০ শতাংশ।
    দেখা যাচ্ছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মধ্যে মাত্র একবার বেসরকারি বিনিয়োগের হার ২৫ শতাংশে উঠেছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা ছিল ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা ছিল ২৩ দশমিক ৭০ শতাংশ; ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা নেমে আসে ২৩ দশমিক ৬৬ শতাংশে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৪ দশমিক ৯৪ শতাংশে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা ২৫ শতাংশের ঘরে ওঠার পর ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা ২৪ দশমিক শূন্য ২ শতাংশে নেমে আসে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংককে কথা নয় কাজ দেখাতে হবে

    বাংলাদেশ ব্যাংককে কথা নয় কাজ দেখাতে হবে

    শহীদুল জাহীদ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নেতৃত্ব দৃশ্যত আন্তরিকভাবেই ব্যাংকিং খাতে সংস্কার করতে চায়। কিন্তু ইতিমধ্যে তাদের বেশ কিছু অতিকথন জনমনে আশার আলো সঞ্চারের বিপরীতে হতাশা ও অনাস্থার জন্ম দিয়েছে।

    প্রথমেই বলা হলো, আমানতকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক আমানত বিমার পরিমাণ এক লাখ থেকে দ্বিগুণ করে দুই লাখ করল। ছোট আমানতকারীরা আশ্বস্ত হলো।

    দুর্দশাগ্রস্ত ব্যাংকের ব্যাংকিং কার্যক্রম বলতে গেলে অনেক দিন ধরে বন্ধই আছে। তাদের চেক ক্লিয়ারিং হচ্ছে না, বন্ধ রয়েছে বৈদেশিক বাণিজ্যে সহায়তা কার্যক্রম। রেমিট্যান্স প্রবাহ শূন্যের কোঠায়।

    নতুন বিনিয়োগ বন্ধ। ঋণ আদায় নেই বললেই চলে। কারণ, যারা ঋণ নিয়েছে, তারা হয় রাঘববোয়াল এবং ধরাছোঁয়ার বাইরে অথবা বেনামে নেওয়া ঋণ হিসাবের খাতা থেকে হাওয়া হয়ে গেছে। বন্ধ রয়েছে অনলাইন লেনদেন। অনাস্থায় নতুন কোনো আমানত আসছে না বলেই চলে।

    এখন এসব ব্যাংকের আমানতকারীরা চেক, ডিমান্ড ড্রাফট ইত্যাদি নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছে। কোনো কোনো শাখায় ব্যাংক কর্মচারীদের সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হচ্ছে, ভাঙচুর হচ্ছে, টাকা ফেরত না পেয়ে কষ্ট ও ব্যর্থ মনোরথে ফিরে যাচ্ছে।

    আমানতকারীদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা হুমকির মুখে। তারা তাদের খরচ মেটাতে ও ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলল, তারল্যসংকটে থাকা এরূপ ব্যাংকে আপৎকালীন তারল্য সহায়তা দেবে। তারা সরাসরি টাকা ধার্য দেবে না।

    তাতে বাজারে মুদ্রাস্ফীতি ঘটবে এবং মূল্যস্তর বৃদ্ধি পেয়ে জনজীবনে কষ্ট তৈরি করবে। বরং বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্দশাগ্রস্ত ব্যাংকের পক্ষে গ্যারান্টিপত্র দেবে, যে গ্যারান্টিপত্র দেখিয়ে তারল্যে উদ্বৃত্ত থাকা ব্যাংক থেকে ওই সব ব্যাংক নগদ তারল্য সহায়তা পাবে।

    আপৎকালীন এ তারল্য সহায়তা স্বল্পমেয়াদি হবে এবং এর বিপরীতে সুদ বা মুনাফা দিতে হবে। জনগণ সরল বিশ্বাসে আস্থা রাখলেও এরূপ বন্দোবস্ত এখনো আলোর মুখ দেখেনি। বেশ কিছু পদ্ধতিগত জটিলতা বাংলাদেশ ব্যাংক ভেবে দেখেনি।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চয়ই জানে, ইসলামী ব্যাংক প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংক তথা সুদি ব্যাংক থেকে ধারকর্জ করতে পারে না। এটি তাদের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এখন সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংক অন্য কোনো ইসলামী ব্যাংক থেকে কর্জ করতে পারে।

    কিন্তু দুঃখজনক হলেও এটাই বাস্তবতা, নিকট অতীতের সবচেয়ে সফল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি নিজেই এখন একটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক।

    অন্যান্য ইসলামী ব্যাংকের অবস্থাও সঙিন। প্রয়োজন ছিল ইসলামি অর্থবাজার তথা ইসলামি মানি মার্কেটের ব্যবস্থা প্রচলন করা, যা আজ অবধি কোনো সরকারই আমলে নেয়নি।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান নেতৃত্বের উচিত হবে ইসলামি মানি মার্কেট প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও উদ্যোগ নেওয়া। গ্যারান্টিপত্র ইস্যু করে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের তারল্যসংকটের সমাধানের চিন্তা শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে।

    প্রথম আলো আয়োজিত সাম্প্রতিক গোলটেবিল বৈঠকে গভর্নরের আহ্বান উদ্বৃত্ত তারল্য থাকা ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা কৌশলে পাশ কাটিয়ে গেছেন। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ইতিমধ্যে সমস্যায় থাকা ব্যাংকে তারল্য সহায়তা ঋণ দিলে তা খেলাপি হতে পারে।

    সেই খেলাপি ঋণ উদ্ধারে নিয়ন্ত্রক ব্যাংক তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বারস্থ হওয়া তাদের জন্য বিব্রতকর। অন্যদিকে বিদেশি অডিট সংস্থা যখন দেখবে, এসব সচ্ছল ব্যাংক দুর্দশাগ্রস্ত ব্যাংক তথা মন্দ গ্রাহককে ঋণ দিয়েছে, তখন ওই সব সচ্ছল প্রতিষ্ঠানেরও আন্তর্জাতিক রেটিং খারাপ হতে পারে।

    সুতরাং বাংলাদেশ ব্যাংকের কথায় তারল্যসংকটে থাকা ব্যাংকের আমানতকারীরা আস্থা রাখতে পারছে না।

    তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত হবে কথার চেয়ে কাজে বেশি মনোযোগ দেওয়া, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা। কষ্ট লাঘবে বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যর্থ হওয়া যাবে না।

    • শহীদুল জাহীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক।