Month: October 2024

  • এই মুহূর্তে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী ব্যক্তি কারা

    এই মুহূর্তে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী ব্যক্তি কারা

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিদ্ধ ফোর্বস সাময়িকীর অনলাইন সংস্করণে ‘রিয়েল টাইম’ বিলিয়নিয়ারের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

    তালিকা অনুযায়ী, এই মুহূর্তে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর তথ্য তুলে ধরা হলো। একই সঙ্গে তাঁরা এখন কত সম্পদের মালিক, তা–ও উল্লেখ করা হলো।

    রিয়েল টাইম (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা) বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী ব্যক্তি হলেন—

    ১. ইলন মাস্ক

    এখন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। মার্কিন ধনকুবের মাস্ক বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান টেসলাসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২৭০ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    ২. ল্যারি এলিসন
    দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ল্যারি এলিসন। মার্কিন ধনকুবের ল্যারি ওরাকল করপোরেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    ৩. জেফ বেজোস
    বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ ধনী জেফ বেজোস। মার্কিন ধনকুবের বেজোস পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ই-কমার্স সাইট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২০৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    ৪. মার্ক জাকারবার্গ
    মার্ক জাকারবার্গ বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ ধনী। তিনি ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা। মার্কিন ধনকুবের জাকারবার্গ ফেসবুকের মালিক কোম্পানি মেটার সিইও। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৯৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    ৫. বার্নার্ড আরনল্ট অ্যান্ড ফ্যামিলি

    বার্নার্ড আরনল্ট ফরাসি ধনকুবের। তিনি ফরাসি বিলাসপণ্যের ব্র্যান্ড এলভিএমএইচের সিইও। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৯৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    ৬. ওয়ারেন বাফেট
    ওয়ারেন বাফেট মার্কিন ধনকুবের। তিনি বহুজাতিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের প্রধান। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৪৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    ৭. ল্যারি পেজ
    মার্কিন ধনকুবের ল্যারি পেজ। তিনি গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা। তিনি এখন গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের পর্ষদ সদস্য। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৩৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    ৮. আমানসিও ওরতেগা
    আমানসিও ওরতেগা স্প্যানিশ ধনকুবের। তিনি ফ্যাশন গ্রুপ ইন্ডিটেক্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    ৯. সের্গেই ব্রিন
    মার্কিন ধনকুবের সের্গেই ব্রিন। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা। তিনি এখন গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের পর্ষদ সদস্য। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    ১০. স্টিভ বলমার
    স্টিভ বলমার মার্কিন ধনকুবের। তিনি মাইক্রোসফটের সাবেক সিইও। তিনি বলমার গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা। বলমার পেশাদার লস অ্যাঞ্জেলেস ক্লিপারস বাস্কেটবল দলের মালিক। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১২৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

  • যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েই লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল

    যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েই লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল

    লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছিল ইসরায়েল। মার্কিন কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।

    লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোয় জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ঢুকে পড়ে ইসরায়েলি সেনারাও।

    এরপর আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামগুলোয় ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে’ স্থল অভিযান শুরু করার কথা জানায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।

    বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত–সংলগ্ন গ্রামগুলোয় ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক ঘণ্টা আগে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে স্থলবাহিনী প্রবেশ করেছে।

    এর আগে গতকাল সোমবার ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের কথা সংবাদমাধ্যমকে জানান মার্কিন কর্মকর্তারা। সিএনএনের খবরে বলা হয়, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী লেবাননের দক্ষিণের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ‘ছোট পরিসরে’ বিশেষ ‘অভিযান’ পরিচালনা করেছে।

    এ বিষয়ে গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। তিনি বলেন, ‘এটার (স্থল অভিযান) বিষয়ে ইসরায়েল আমাদের অবহিত করেছে। এখন এটা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে অভিযান চালানো হয়েছে।’

    ‘ছোট পরিসরে’ অভিযান চালানোর বিষয়ে নিশ্চিত করে জানতে চাইলে ম্যাথিউ মিলার আরও বলেন, ‘আমরা তা–ই মনে করছি।’

    লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েল স্থলবাহিনী পাঠাতে যাচ্ছে, গতকাল থেকেই এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন একজন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান থেকে বোঝা যায় যে তারা লেবাননের স্থলভাগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।’

    এর আগে দুই সপ্তাহ ধরে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে আসছিল ইসরায়েলি বাহিনী। গত শুক্রবার বৈরুতের দক্ষিণে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন হিজবুল্লাহপ্রধান হাসান নাসরুল্লাহ।

    ইসরায়েলি হামলায় গতকাল এক দিনে ৯৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আহত হয়েছেন আরও ১৭২ জন। আর দুই সপ্তাহ ধরে চলা হামলায় লেবাননে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।

    হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের বিরোধ বেশ পুরোনো। তবে গত বছরের অক্টোবরে ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনের গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করলে এই বিরোধ আরও জোরালো হয়ে ওঠে। এর পর থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ‘স্বল্প পরিসরের’ হামলা চালিয়ে আসছিল হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলও পাল্টা জবাব দিচ্ছিল।

    ম্যাথিউ মিলার আরও বলেন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মাঝেমধ্যে তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর সামরিক চাপ থাকে। তবে ম্যাথিউ মিলার সতর্ক করে দিয়ে এটাও বলেন যে, সামরিক চাপ পরিস্থিতির ভুল পর্যবেক্ষণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

  • তাঁদের আর পুলিশ বলব না, তাঁরা অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    তাঁদের আর পুলিশ বলব না, তাঁরা অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, যেসব পুলিশ সদস্য এখনো কাজে যোগ দেননি, তাঁদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তাঁদের আর পুলিশ বলবেন না জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, তাঁরা অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন।

    আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

    সাংবাদিকেরা এখন পর্যন্ত কতজন পুলিশ সদস্য কাজে যোগ দেননি, তা জানতে চান। জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এর আগে তিনি বলেছিলেন ১৮৭ জনের মতো।  এরপরে মনে হয় আর কেউ যোগদান করেননি। তিনি বলেন, ‘যাঁরা যোগ দেননি, তাঁদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’

    আসন্ন দুর্গাপূজা যাতে নির্বিঘ্ন হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি আশা করছেন, এবারের পূজা সবচেয়ে নির্বিঘ্ন হবে, সবচেয়ে ভালো হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব ভালো বলব না, তবে সন্তোষজনক। এটাকে কীভাবে ভালো করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, যত দিন যাবে তত উন্নতি হবে।

    এ ছাড়া বিভিন্ন মাজার ও দরগায় কীভাবে নিরাপত্তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পোশাক খাত নিয়ে কথা বলেছেন বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন করার দাবি নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়নি।’

    পুলিশের সংস্কার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সংস্কারের কাজটা তিনি করছেন না, এ জন্য আলাদা কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটি কাজটি করবে। তারা প্রতিবেদন দেবে, সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সংস্কার হবে।

  • শুধু জাতীয় পার্টি নয়, বিএনপি ও জামায়াতকেও ধ্বংস করতে চেয়েছিল আ.লীগ: জি এম কাদের

    শুধু জাতীয় পার্টি নয়, বিএনপি ও জামায়াতকেও ধ্বংস করতে চেয়েছিল আ.লীগ: জি এম কাদের

    বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল আওয়ামী লীগ—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি ও জামায়াতকে মামলা-হামলা করে আর জাতীয় পার্টিকে বিভক্ত করে ধ্বংস করতে চেয়েছে।

    আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ে জাতীয় যুব সংহতির নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় জি এম কাদের এ কথা বলেন।

    জি এম কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ দানবীয় শক্তি দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতি করতে দেয়নি। বিএনপিকে জেল-জুলুম করে ঘরছাড়া করেছিল। জামায়াতকে তো রাজনীতির মাঠে দাঁড়াতেই দেয়নি। আর ২০১৪ সাল থেকে জাতীয় পার্টিকে রাজনীতি করতে দেয়নি।

    নিজ দলের কথা উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, ‘২০১৪ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ আমাদের মধ্যে একটি দালাল পার্টি তৈরি করে রেখেছিল। অবৈধভাবে তাদের জাতীয় পার্টির লোগো ও প্রতীক ব্যবহার করতে সহায়তা করেছিল আওয়ামী লীগ। টেলিভিশনে গিয়ে তারা জাতীয় পার্টি পরিচয়ে আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলত। ২০২৪ সালে বলা হলো, আপনি নির্বাচন না করলে অন্য কেউ জাতীয় পার্টির লাঙল নিয়ে নির্বাচন করবে। আমরা তাতে রাজি হইনি। পরবর্তী সময় বলা হলো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে আপনারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন।’

    জি এম কাদের বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে না গেলে হয়তো অন্য একটি গ্রুপ জাতীয় পার্টির নামে নির্বাচনে যেত। দেশি-বিদেশি রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বললেন, নির্বাচন বন্ধ করা যাবে না। আওয়ামী লীগ যেকোনো মূল্যে নির্বাচন করে ফেলবে। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ দিয়েই এ ও বি টিম তৈরি করেছিল।’

    এ প্রসঙ্গে জি এম কাদের বলেন, ‘২০২৪ সালে অন্যান্য রাজনৈতিক দল যেভাবে স্বৈরাচারের দানবীয় শক্তির কাছে পরাজিত হয়েছিল, আমরাও সেভাবেই পরাজিত হয়েছিলাম। রাজনীতি করতে গেলে একটি দল দরকার হয়। আবার সঠিক রাজনীতি না থাকলে দলও থাকে না। শুধু দল বাঁচাতে কিছু কম্প্রোমাইজ করতে আমরা বাধ্য হয়েছি।’ এ বিষয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিজেকে নিয়ে চিন্তা করুন, এমন অবস্থায় আপনি হলে কী করতেন?’

    অনেকে জাতীয় পার্টি সম্পর্কে অপপ্রচার করছে জানিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘আমরা ২০২৪ সালের নির্বাচনে গিয়েছি, তাই নাকি আওয়ামী লীগ দানবে পরিণত হয়েছে। আমরা নির্বাচনে না গেলে কি নির্বাচন হতো না? আমরা নির্বাচনে না গেলে আওয়ামী লীগ কি ক্ষমতাচ্যুত হতো?’ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিকে জোর করে নির্বাচনে নেওয়া হয়েছে। আর নির্বাচন করে সরকার তো কোথাও বাধাগ্রস্ত হয়নি। সরকার বাধাগ্রস্ত হয়েছে জেদ ও অহংকারের কারণে।

    ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে ভালো নির্বাচন হলেও দেশ ভালো সরকার পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেন, ক্ষমতা মানুষকে দুর্নীতিগ্রস্ত করতে পারে। কিন্তু অসীম ক্ষমতা নিশ্চিতভাবেই মানুষকে দুর্নীতিগ্রস্ত করে। আর সেই ক্ষমতা বাড়াতে সংবিধানকে বারবার পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই এই সংবিধানের অধীন সুষ্ঠু নির্বাচনে যাকেই ক্ষমতায় বসাবেন, তিনিই ক্ষমতার জোরে দানব হতে বাধ্য।

    জি এম কাদের বলেন, ‘আমাদের সংবিধান এক ব্যক্তির হাতে সব ক্ষমতা দিয়েছে। একই ব্যক্তি নির্বাহী বিভাগ, সংসদ ও প্রায় শতভাগ বিচার বিভাগের প্রধান। সাংবিধানিক সব প্রতিষ্ঠান ওই এক ব্যক্তির হাতে। তাই পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধানের এক-তৃতীয়াংশ কখনোই বাতিল করা যাবে না, এটা কোনো যৌক্তিক কথা নয়। সংবিধান সংশোধন করে গণভোট দেওয়ার বিধান থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকার তা করেনি।’

    জি এম কাদের আরও বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে আমরা স্থানীয় সরকারের নির্বাচন চাই। তবেই আমরা বুঝতে পারব নির্বাচন বিষয়ে কতটা সংস্কার হলো, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না। যারাই ক্ষমতায় আসুক, তারা যেন দানব না হতে পারে।’

    মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক, প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, জহিরুল ইসলাম, আতিকুর রহমান, শেরীফা কাদের, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, আরিফুর রহমান প্রমুখ। জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি এইচ এম শাহরিয়ার আসিফের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহাদ ইউ চৌধুরী।

  • গফরগাঁওকে ‘ত্রাসের রাজত্ব’ বানিয়েছিলেন আওয়ামী গডফাদার ফাহমী গোলন্দাজ

    গফরগাঁওকে ‘ত্রাসের রাজত্ব’ বানিয়েছিলেন আওয়ামী গডফাদার ফাহমী গোলন্দাজ

    তিন স্তরে উঁচু সীমানাপ্রাচীরের দুটি প্রাচীর ভেঙে পড়ে আছে। বাড়ির ভেতরে ভাঙচুর করা হয়েছে। আগুনও দেওয়া হয়েছে কোথাও কোথাও। তালাবদ্ধ দোতলা ভবন। ভাঙা বাড়িটি দেখতে এসেছেন আশপাশের গ্রামের নারী, পুরুষ ও শিশুরা।

    সালটিয়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাক নামের এক বৃদ্ধ বললেন, ‘প্রত্যেক দিন আমি এই বাড়ির সামনে দিয়া গেছি। উঁচা বাউন্ডারি (প্রাচীর) থাকায় কোনো দিন ভিতরের কিছু দেখা নাই। হুনছি, বাড়িটার ভিতরে মানুষরে ধইরা নিয়ে নির্যাতন করা হইত।’

    ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সালটিয়া ইউনিয়নের বাগুয়া এলাকায় অবস্থিত এই বাড়ি সাবেক সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ ওরফে বাবেলের। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে গেলে গত ৫ আগস্ট তাঁর বাড়িতে হামলার চেষ্টা হয়। ৭ সেপ্টেম্বর ভোরে একদল লোক বাড়ির দুটি ফটক গুঁড়িয়ে দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। ‘টর্চার সেল’ আখ্যা দিয়ে তারা বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এ সময় একটি টিনশেডের ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় দুটি গাড়ি।

    ৯ সেপ্টেম্বর বাড়িটি ঘুরে দেখতে দেখতে হঠাৎ চোখ আটকে যায় পেছন দিকে পুকুরপাড়ের একটি টিনের চালার নিচে তিনটি লোহার খাঁচায়। খাঁচাগুলো শূন্য। খাঁচায় কী রাখা হতো, এমন আলোচনা উঠতেই বাড়ি দেখতে আসা ব্যক্তিদের একজন নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘শুনেছি একটি খাঁচায় কুকুর রাখা হতো। কেউ এমপি সাইবের সাথে বেয়াদবি করলে তাকে কুকুরের খাঁচায় ছেড়ে দিয়ে শাস্তি দেওয়া হতো।’

    ২০১৪ সালে প্রথমবার ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ফাহমী গোলন্দাজের বেপরোয়া শাসন শুরু হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা।

    ৯ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গফরগাঁওয়ে অবস্থান করে সাধারণ মানুষ, বিএনপির নেতা-কর্মী, সাংবাদিক ও সুধীজনদের সঙ্গে দৈনিক নতুন বাংলাদেশ -এর কথা হয়। তাঁরা বলেছেন, উপজেলার ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে কমিশন আদায় ও অবৈধ বালুর ব্যবসা থেকে বিপুল টাকা কামিয়েছেন ফাহমী। একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় এলাকাছাড়া করেছেন বিএনপির নেতা–কর্মীদের। তাঁর সঙ্গে দ্বিমত করে আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীরাও এলাকায় থাকতে পারেননি। কথা না শুনলে বাড়িতে তুলে এনে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। এখন তিনি আত্মগোপনে যাওয়ায় মানুষ কিছুটা স্বস্তির কথা জানালেও পুরোপুরি ভীতি কাটছে না।

    ঠিকাদারিতে আধিপত্য বিস্তার

    ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে শীতের রাতে গফরগাঁও উপজেলা ঠিকাদার সমিতির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামানকে বাড়িতে ডেকে আনেন ফাহমী। ওই সময় বাড়িতে থাকা তরুণদের সামনে আসাদুজ্জামানের উদ্দেশে ফাহমী বলেন, ‘আপনি কি নিজে নিজে পুকুরের পানিতে নামবেন, নাকি আমার ছেলেরা জোর করে নামাবে?’ এই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার দৈনিক নতুন বাংলাদেশ কে বলেন, ওই রাতে ফাহমী গোলন্দাজ আসাদুজ্জামানকে সাফ জানিয়ে দেন, গফরগাঁওয়ের সব ঠিকাদারি কাজ শুরুর আগে মোট বরাদ্দের ১০ শতাংশ কমিশন তাঁকে দিতে হবে।

    ১০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আসাদুজ্জামান কোনো মন্তব্য করতে চাননি। শুধু বলেন, ‘আমার ছেলে এখনো গফরগাঁওয়ে থাকে। আমাকে বিপদে ফেলবেন না।’

    বালুর অবৈধ ব্যবসা

    ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় ঘেঁষে গফরগাঁও উপজেলার অবস্থান। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিটিএ) প্রকল্পের অধীনে নদে খনন শুরু হয়। প্রকল্পের একজন কর্মকর্তা বলেন, কাজ শুরুর সময়ই ফাহমী গোলন্দাজ প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিনা পয়সায় বালু নেওয়া। পরে কাজ শুরু হলে (এখনো চলমান) উপজেলার ধলা থেকে কাপাসিয়ার টোক পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার অংশের অবৈধ বালু–বাণিজ্য নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন ফাহমী।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বালু তুলে নদের পাশের জমিতে রাখা হতো, যা পরে নিলামে বিক্রি করা হতো। নিলামে কেনা বালু ব্যবসায়ীরা নিয়ে যাওয়ার পর ফাহমীর লোকেরা নদ খনন করে এবং নদের পাশের কৃষকদের জমি থেকে আবারও বালু তুলতেন। ৪০ কিলোমিটার অংশকে মোট সাতটি ভাগে ভাগ করে বছরে একবার মোটা অঙ্কের টাকা বালু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিতেন। এ ছাড়া বালু উত্তোলনের সময় প্রতিদিন প্রতিটি ট্রাক থেকে নেওয়া হতো ৬০০ টাকা আর প্রতিটি লরিতে ২০০ টাকা। এভাবে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি ট্রাক ও লরি থেকে কয়েক লাখ টাকা আসত। পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তাজমুন আহমেদ এই অবৈধ বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনিও এখন এলাকায় নেই।

    অবৈধভাবে বালু তুলে ফাহমীর লোকেরা অসংখ্য কৃষকের ফসলি জমি নষ্ট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সালটিয়া গ্রামে নদের পাড়ে স্থানীয় সাংবাদিক আবদুল মান্নানের কৃষিজমি রয়েছে। বালু তুলতে বাধা দেওয়ায় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারির ওই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আবদুল মান্নান বলেন, ‘গ্রামের কিছু কৃষকের পক্ষ হয়ে ওই দিন এমপির (ফাহমী) লোকদের কৃষিজমির বালু তুলতে বাধা দিয়েছিলাম। খবর পেয়ে এমপি নিজেই লোকজন নিয়ে আমাকে তুলে নিয়ে যান। এরপর একটি ঘরে বন্দী করে রেখে তাঁর লোকদের পাঠিয়ে আমার ও কৃষকদের জমির মাটি কেটে নদের পানির সঙ্গে মিশিয়ে দেন। আমার পেশা সাংবাদিকতা না হলে ওই দিন আমাকে হয়তো মেরে ফেলতেন।’

    ভয়ে বাড়িতে থাকতেন না

    ২০১৪ সালের ১৩ জুন সন্ধ্যায় যুবদল কর্মী শাকিল আহমেদ অগ্নিবীণা ট্রেনে এসে গফরগাঁও স্টেশনে নামেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ছিনতাইকারী অভিযোগ তুলে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে বাঁচাতে আটক করে নিয়ে যেতে চাইলে ছিনিয়ে নিয়ে আবারও মারধর করা হয়। এতে শাকিল মারা যান। ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা এই হামলা চালান বলে তখন অভিযোগ করেছিলেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা। শাকিল হত্যায় পুলিশ মামলা না নিলে পরে আদালতে একটি মামলা হয়।

    বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, ফাহমী গোলন্দাজ প্রথম সংসদ সদস্য হওয়ার পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রকাশ্যে পেলেই ছিনতাইকারী সাজিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এমন নির্দেশনার কারণে শাকিলকে হত্যা হয়। এ কারণে ১০ বছর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা গফরগাঁওয়ে থাকতে পারেননি। গ্রামের সাধারণ কর্মীরাও দলের কর্মসূচিতে যেতে চাইলে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ বিএনপির।

    গফরগাঁও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ফজুলল হক দৈনিক নতুন বাংলাদেশ কে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তথা ফাহমী গোলন্দাজের ভয়ে আমরা গফরগাঁওয়ে থাকতাম না। তবু গত ২৮ অক্টোবরের পর ফাহমীর লোকেরা তাঁর খালি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। একই দিন পৌর বিএনপির ৫ জন যুগ্ম আহ্বায়কের বাড়িতেও ভাঙচুর করে।’

    আক্রোশের শিকার অনেকে

    ভিন্নমত পোষণ করলেই নিজ দলের নেতা-কর্মীরাও ফাহমী গোলন্দাজের আক্রোশের শিকার হতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গফরগাঁও পৌরসভার সদ্য সাবেক মেয়র ইকবাল হোসেন (সুমন) ছিলেন ফাহমীর অনুসারী। বিপত্তি বাধে ২০২২ সালের এপ্রিলে। ওই মাসে ইকবালের জন্মদিনে তাঁর এক প্রবাসী বন্ধু শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘আমার বন্ধু গফরগাঁও পৌরসভার মেয়রকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা, আগামীতে তাঁকে গফরগাঁওয়ের এমপি হিসাবে দেখতে চাই।’

    এর এক মাস পর মেয়রের সমর্থকদের ওপর সংসদ সদস্যের সমর্থকেরা হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকেই মেয়র ইকবাল হোসেন ও তাঁর সমর্থকেরা গফরগাঁও ছেড়ে যান। পরে আর ফিরতে পারেননি। সম্প্রতি সরকার পৌরসভার মেয়রদের বরখাস্ত করার দিন (১৯ আগস্ট) ইকবাল গফরগাঁও পৌরসভায় গিয়েছিলেন। সেদিন কিছু লোক তাঁকে মারধর করে পুলিশে দেন।