Category: ভাইরাল

  • সাইনবোর্ডে ভেসে উঠল ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, দোকান ভাঙচুর

    সাইনবোর্ডে ভেসে উঠল ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, দোকান ভাঙচুর

    শেরপুর জেলা শহরের ‘রাজ ক্রোকারিজ অ্যান্ড গিফট শপ’-এর ডিজিটাল সাইনবোর্ডে ভেসে উঠল ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ওই দোকান ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ এসে দোকান মালিকসহ এক কর্মচারীকে আটক করে নিয়ে যায়।

    গত বুধবার (৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে নয়টার দিকে শহরের রঘুনাথ বাজার রোডে এ ঘটনা ঘটে।

    আটকরা হলেন- দোকান মালিক রাজু ও একজন কর্মচারী। তবে আটক কর্মচারীর নাম জানা যায়নি।

    প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সাংবাদিক মোহাইমিনুল হুমায়ুন জানান, রাত সাড়ে নয়টার দিকে আমরা কয়েকজন রঘুনাথ বাজার রোডে কথা বলছিলাম। হঠাৎ রাস্তায় চলাচলরত মানুষের হইচই শুনতে পাই। লোকজন বলাবলি করতে থাকে- ‘রাজ ক্রোকারিজের ডিজিটাল সাইনবোর্ডে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লেখা দেখা যাচ্ছে। আমি গিয়েও সেটাই দেখতে পাই এবং ছবি তুলি।

    তিনি আরো জানান, এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ওই দোকান ভাঙচুর করে; কর্মচারীর ওপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় দোকানের মালিক রাজু এবং এক কর্মচারীকে আটক করা হয়।

    সদর সার্কেল আব্দুল করিম এ খবর নিশ্চিত করেন। বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • আবারও ভাইরাল রুনা খান, তাঁর পোশাক নিয়ে কী বললেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা

    আবারও ভাইরাল রুনা খান, তাঁর পোশাক নিয়ে কী বললেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা

    তৃতীয়বারের মতো ঢাকায় হয়ে গেল আর্কা ফ্যাশন উইক। নতুন প্রজন্মের, বিশেষ করে শহুরে জেন-জিদের কাছে এই উৎসব পেয়েছে জনপ্রিয়তা। ১৬ থেকে ১৯ জানুয়ারি এই ফ্যাশন উইক অনুষ্ঠিত হলো তেজগাঁওয়ের আলোকি কনভেনশন হলে। ভিন্নধর্মী ফ্যাশন উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে পণ্য প্রদর্শনী, বেচাকেনাসহ চার দিনে নানা রকম মাস্টারক্লাস, ডিজাইন ল্যাব, ফ্যাশন শোয়ের আয়োজনও ছিল। শেষ দিন ফ্যাশন শোয়ের একটি কিউয়ে ডিজাইনার তানহা শেখের ফ্যাশন লেবেল ‘তান’-এর নতুন সংগ্রহ তুলে ধরা হয়। যেখানে শো স্টপার অভিনেত্রী রুনা খানের পোশাকটি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

    দেশের জ্যেষ্ঠ ফ্যাশন ডিজাইনার থেকে শুরু করে মডেলরাও পোশাকটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ফ্যাশন অঙ্গন থেকে সাধারণ মানুষ রীতিমতো দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে বলা চলে। একদল সরব ‘দেশি ঐতিহ্য ভুলে যাওয়া হচ্ছে’ বলে, আরেক দল বলছে, ‘এটা নতুনকে নিতে না পরার ব্যর্থতা’।

    আলোচনার শুরু ১৯ জানুয়ারি ফ্যাশন শো শেষ হওয়ার পর। অনেকে লুকটাকে বাহ্বা দিয়েছেন, কেউ দিয়েছেন দুয়ো। এমনকি নানা রকম মিম ও ট্রলও হয়েছে অনলাইনে। এর মধ্যে ফ্যাশন ডিজাইনার ও ‘আনোখি’র উদ্যোক্তা হুমায়রা খান ২১ জানুয়ারি রুনা খানের একটি ছবিসহ বেশ কড়াভাবেই নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন ফেসবুকে। এরপর সরব হয়েছেন আরও অনেকে। কেউ কেউ হুমায়রা খানের লেখাটি শেয়ার করে একমত প্রকাশ করেছেন, কেউ আবার দ্বিমত জানিয়েছেন ওই পোস্টের কমেন্ট বক্স বা নিজেদের ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে। হুমায়রা খানের ওই পোস্ট শেয়ার করে পোশাকটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়া ডিজাইনার ও মডেল বিবি রাসেল। শো স্টপারের লুক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মডেলিং দিয়ে দেশ-বিদেশে পরিচিতি পাওয়া পিয়া জান্নাতুলও। আবার তরুণ ডিজাইনার তানহা শেখের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন সম্প্রতি দেশ-বিদেশে খ্যাতি পাওয়া তরুণ মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার সোবিয়া আমিনসহ অনেক তরুণ মডেল ও উদ্যোক্তা।

    রুনা খানের এই ভাইরাল পোশাক বা লুক নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত জানতে চেয়েছিলাম আমরা। আসুন জেনে নিই, কে কী বললেন।

    ফেসবুকে হুমায়রা খান ‘ইয়াং ডিজাইনার’ সম্বোধনে ইংরেজিতে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, তার সারমর্ম হলো, ‘দয়া করে আপনারা দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানুষের কথা ভেবেই নকশা করুন। এমন বিজনেস মডেল নিয়ে ভাবুন, যেটিকে আপনার গোষ্ঠী নিজের বলে মনে করবে। মেট গালার মতো পোশাকে “ওভার দ্য টপ” এ দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। আমরা যা করতে পারিনি, তরুণ ডিজাইনারদের সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর অনুরোধ করছি।’ শেষে পোশাকটির মডেলকে উদ্দেশ করে হুমায়রা খান ওই স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আপনি কেন জেনেবুঝে এটার প্রচার করছেন?’

  • দাবানলে বাড়ি অক্ষত থাকার ঘটনাটি হাওয়াইয়ের, লস এঞ্জেলসের নয়

    দাবানলে বাড়ি অক্ষত থাকার ঘটনাটি হাওয়াইয়ের, লস এঞ্জেলসের নয়

    ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলসে সপ্তাহব্যাপী দাবানলে হাজারো বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। এর মাঝেই সামাজিক মাধ্যমের নানান পোস্টে পুড়ে যাওয়া এক এলাকায় লাল ছাদযুক্ত অক্ষত একটি বাড়ির ছবি ছড়িয়ে অসত্যভাবে দাবি করা হচ্ছে যে, বাড়িটির মালিক মুসলমান হওয়ায় এবং সেখানে কোরআনের কপি থাকায় সেটি পুড়ে যায়নি। প্রকৃতপক্ষে ছবিটি ২০২৩ সালে হাওয়াইয়ের লাহিয়ানা শহরে দাবানলে ঘটনার সময় তোলা। সাম্প্রতিক সংস্কার কাজের ফলে বাড়িটি আগুনে অক্ষত থাকার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়ার রিপোর্ট থেকে জানা গেছে।
    গত ১২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে বাংলা ভাষার এক ফেসবুক পোস্টে ছবিটি শেয়ার করে ক্যাপশন দেয়া হয়, “আমেরিকায় দাবানলে সব পুড়ে শেষ। কিন্তু এই বাড়িটি আগুনে পুড়ে নাই, কারণ কি জানেন? কারণ এই বাড়িটি একজন মুসলিমের, এই ঘরে পবিত্র কোরআন ছিল। সুবহানাল্লাহ।”

    ১২০০ এর অধিক শেয়ার হওয়া ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, আগুনে ধ্বংস্তুপে পরিণত হওয়া একটি এলাকায় লাল রঙা ছাদের একটি বাড়ি অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।

    একই ছবি বাংলা ভাষায় ফেসবুকে এখানে ও এখানে শেয়ার করা হয়েছে। এছাড়াও ইংরেজি, হিন্দি এবং থাই ভাষাও ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে। তবে ফিলিপিনো ভাষায় পোস্ট করা কিছু ক্যাপশনে বাড়ির মালিককে খ্রিষ্টান বলে দাবি করা হয়েছে।

    লস এঞ্জেলসে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ২৪ জনের নিহত এবং ৯০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনার মধ্যেই ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে (আর্কাইভ লিংক)।

    স্থানীয় বাসিন্দা যখন এর পেছনের কারণ জানতে উদগ্রীব এবং সামাজিক মাধ্যমের অযাইকৃত ভিডিওতে যখন নানান ধরনের দাবি করা হচ্ছে তখন এই দাবানলের কারণ খুঁজে বের করতে অগ্নি বিশেষজ্ঞরা ধ্বংস্তুপের মধ্যে চিরুনী অভিযান চালাচ্ছেন।

    অনেক সময় দাবানল ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হলেও এটি পরিবেশের জীবনচক্রেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    তবে অনলাইনে ছড়ানো আলোচ্য ছবিটি আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে লাগা আগুনের ঘটনার নয়।

  • বন্ধুর ফোন পেয়ে পাওনা টাকা নিতে বের হয়েছিলেন নিহত শাহাদাত

    বন্ধুর ফোন পেয়ে পাওনা টাকা নিতে বের হয়েছিলেন নিহত শাহাদাত

    সাগর নামে শাহাদাতের পুরোনো এক বন্ধু আছে। তাঁকে কিছু টাকা ধার দিয়েছিলেন শাহাদাত। সেদিন সাগরের ফোন পেয়ে পাওনা টাকা নেওয়ার জন্যই দুপুরে বের হয়েছিলেন শাহাদাত। এর পর থেকে মুঠোফোন বন্ধ। পরদিন ফেসবুকে তাঁর লাশ উদ্ধারের ভিডিও দেখে জানতে পারেন শাহাদাত মারা গেছেন।

    চট্টগ্রামে একদল তরুণের হাতে গণপিটুনিতে নিহত শাহাদাত হোসেনের (২৪) স্ত্রী শারমিন আক্তার বলেন কথাগুলো। আজ সোমবার প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হয় তাঁর। শারমিন আক্তার বলেন, ‘আমি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই সময় স্বামীকে হারালাম। আমার স্বামীকে যাঁরা মারল, আমি তাঁদের বিচার চাই।’

    শাহাদাত হোসেনের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠতে পারেননি শারমিন আক্তার। গত শনিবার শাহাদাতকে পিটিয়ে মারার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ২০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শাহাদাতকে উড়ালসড়কের নিচে দুটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় গান গেয়ে তাঁকে মারধর করছেন একদল তরুণ। ভিডিওটিতে মারধরের শিকার ব্যক্তি যে শাহাদাত, সেটি শনিবার রাতে পুলিশকে নিশ্চিত করেছেন শারমিন আক্তার। শাহাদাত ছিলেন ফলমণ্ডি এলাকার ভ্যানচালক।

    শারমিন আক্তার বলেন, ‘সেদিন দুপুরে সাগরের ফোন পেয়েই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন শাহাদাত। সাগর আমাকেও মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। আমি বর্তমানে স্বামীর বাসায় থাকছি না।’

    ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সাগর আছেন কি না, এমন প্রশ্নে শারমিন সরাসরি জবাব দিতে রাজি হননি। তবে সাগর ওই স্থানের আশপাশে প্রায়ই থাকতেন বলে জানান তিনি।

    মো. শাহাদাত হোসেনের পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি থানাধীন পাঁচবাড়িয়া ইউনিয়নের নদনা গ্রামে। স্ত্রী ও মাকে নিয়ে থাকতেন নগরের কোতোয়ালি থানাধীন বিআরটিসি এলাকার বয়লার কলোনিতে। সেখানে সবাই নিশ্চিত করেছেন ভিডিওতে মারধরের শিকার ব্যক্তি শাহাদাত। তবে বর্তমানে তাঁর স্ত্রী সেখানে থাকেন না।

    সোমবার সরেজমিনে বয়লার কলোনিতে দেখা যায়, সেখানে এক কক্ষের একটি ঘরের দরজায় বসে ছিলেন দেলোয়ারা বেগম। দেলোয়ারা বেগমও বলেন, সেদিন তাঁর বন্ধুর ফোন পেয়ে বের হয়েছিলেন শাহাদাত। পরদিন তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। যে বন্ধুর ফোন এসেছিল, সেটি সাগর বলে নিশ্চিত করেছেন দেলোয়ারা বেগম। তবে সাগরের বিস্তারিত পরিচয় সম্পর্কে জানাতে পারেননি তিনি।

    পুলিশ জানায়, মারধরের ঘটনাটি গত ১৩ আগস্ট সন্ধ্যা কিংবা ১৪ আগস্ট রাতের। তবে লাশ ১৪ তারিখ উদ্ধার হওয়ায় পুলিশের ধারণা ১৪ আগস্ট এটি ঘটেছে। সেদিন শাহাদাতের স্ত্রী ও চাচা মো. হারুন হাসপাতালে তাঁর লাশ শনাক্ত করেন।

    লাশ উদ্ধারের পরদিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় মামলা করেন মো. হারুন। সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাহাদাত হোসেনের মাথা, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গান গেয়ে গেয়ে তাঁকে লাঠি হাতে মারধর করতে দেখা গেছে কয়েকজন তরুণ-যুবককে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে স্থানে শাহাদাতকে বেঁধে রাখা হয়েছিল, সেটি চট্টগ্রাম নগরের আখতারুজ্জামান উড়ালসড়কের নিচে ২ নম্বর গেট মোড় এলাকা।

    ভিডিও থেকে কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে বলে জানিয়েছে নগর পুলিশ। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) কাজী মো. তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, এক যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।