Blog

  • কুষ্টিয়ায় লালন একাডেমির কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে ডিসিকে আলটিমেটাম

    কুষ্টিয়ায় লালন একাডেমির কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে ডিসিকে আলটিমেটাম

    কুষ্টিয়ায় লালন একাডেমির অ্যাডহক কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার’ ব্যানারে মানববন্ধন হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের আখড়াবাড়ির প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা ‘আওয়ামী লীগের দোষর ও হত্যা মামলার আসামিদের নিয়ে’ আসন্ন লালন শাহের ১৩৪তম তিরোধান দিবস পালনের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ করেন।

    বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৪তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেই লক্ষ্যে গত রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লালন একাডেমির অ্যাডহক কমিটির একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মানববন্ধনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়ার সমন্বয়ক তৌকির আহমেদ বলেন, ‘শহীদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। অথচ ছাত্র–জনতাকে বাদ দিয়ে কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আওয়ামী লীগের দোসর ও হত্যা মামলার আসামিদের নিয়ে বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবস পালনের প্রস্তুতিমূলক সভা করেছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ তিনি আরও বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্তমান কমিটি ভেঙে ছাত্র–জনতা ও সব পর্যায়ের নেতাদের দিয়ে নতুন কমিটি করতে হবে। তা না হলে পুনরায় মানববন্ধন, কঠোর আন্দোলন–সংগ্রাম করা হবে।

    জেলা প্রশাসকের উদ্দেশে আরেক সমন্বয়ক আলমাস মামুন বলেন, ‘এই রাষ্ট্র আমাদের। এই রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটা ঠিক করব আমরা। এই রাষ্ট্রের মালিকানা বুঝে নিতে এসেছি আমরা। আমরা কোনো গোলটেবিলের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে বুঝে নিইনি। আমরা কিন্তু আমাদের ভাইয়ের রক্তের বিনিময়ে এই রাষ্ট্রকে বুঝে নিয়েছি। তাই সাবধান। আমাদের হালকাভাবে নিয়েন না।’

  • রাজশাহীতে মাউশির আঞ্চলিক পরিচালককে বের করে দিয়ে কার্যালয়ে তালা দিলেন একদল তরুণ

    রাজশাহীতে মাউশির আঞ্চলিক পরিচালককে বের করে দিয়ে কার্যালয়ে তালা দিলেন একদল তরুণ

    ‘স্থানীয়’ পরিচয় দিয়ে একদল তরুণ রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা ভবন থেকে আঞ্চলিক পরিচালককে বের হয়ে যেতে বাধ্য করেছেন। আজ সোমবার বিকেল চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরিচালককে বের করে দেওয়ার পর ওই তরুণেরা কার্যালয়ে তালা দিয়ে চাবি নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    রাজশাহী শিক্ষা ভবন সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা ভবনের চতুর্থ তলায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) রাজশাহীর আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়। বিকেল ৪টার দিকে ২০ থেকে ৩০ জন তরুণ এই কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তাঁরা পরিচালক অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অনুসারী শিক্ষকদের কাজ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁকে কার্যালয় থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

    এ সময় পরিচালক নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, তিনি সরকারের একজন কর্মচারী। তাঁকে কেউ এভাবে অফিস ত্যাগ করতে বাধ্য করতে পারেন না। তিনি নিয়ম মেনে সবার কাজ করেন। নিয়মের বাইরে কারও কাজ করতে পারেন না। তবে ওই তরুণেরা বলেন, তাঁরা কোনো কথা শুনতে চান না। একপর্যায়ে পরিচালক শিক্ষার মহাপরিচালককে ফোন করার জন্য মুঠোফোন হাতে তুললে তাঁরা তাঁকে ফোন করতে বাধা দেন। তাঁরা বলেন, তিনি যা বলবেন কার্যালয়ের বাইরে গিয়ে বলবেন। ভেতরে কিছু বলতে পারবেন না। বাধ্য হয়ে তিনি তাঁদের চাপের মুখে কার্যালয় থেকে বের হয়ে আসেন। তারপরে তাঁরা তাঁর কার্যালয়ে তালা দিয়ে চাবি নিয়ে যান।

    এ ব্যাপারে পরিচালক অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ব্যানার্জী বলেন, ওই তরুণদের চাপের মুখে তিনি কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁরা যে অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন, তা সত্য নয়। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পরও অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সেপ্টেম্বরের এমপিওর কাজ তিনি এবং তাঁর অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিলে সম্পন্ন করেছেন। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ তাঁদের কাছে আসেনি। তিনি বলেন, ওই তরুণেরা যখন আসেন, তখন তাঁর কার্যালয়ে কাজের জন্য এসেছিলেন কলেজের একজন অধ্যক্ষ। তাঁরা প্রথমে তাঁকে কার্যালয় থেকে বের করে দেন। তারপর তাঁর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন।

  • সাভারে বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক আটকে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছেই

    সাভারে বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক আটকে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছেই

    ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়ায় সম্প্রতি বন্ধ ঘোষণা করা বার্ডস গ্রুপের চারটি কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। নবীনগর থেকে চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল এলাকায় গতকাল থেকে এই বিক্ষোভ করছেন তাঁরা, যা আজ দুপুর ১২টার দিকেও চলছিল। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

    পুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত রোববার বার্ডস গ্রুপের পক্ষ থেকে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধের জন্য তিন মাসের সময় বর্ধিতকরণের নোটিশ দেওয়া হয়। এতে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বেতন শোধ করতে তিন মাস সময় চায়। নোটিশের পর শ্রমিকেরা বকেয়া পাওনার দাবিতে বাইপাইলে নবীনগর থেকে চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। গতকাল সেখানে বিকল্প সড়কে গাড়ি চললেও আজ পরিস্থিতি স্বাভাবিক ভেবে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক ব্যবহার করতে এসে অনেকে ভোগান্তিতে পড়েছেন। যানজট দীর্ঘ হওয়ায় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পাশাপাশি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কেও যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

    বার্ডস গ্রুপের একটি কারখানার একজন নারী শ্রমিক বলেন, ‘আমাগো বেতন না দিয়া ফ্যাক্টরি বন্ধ করল কেন? হুট কইরাই বন্ধ করছে। আমাগোরে জানায় নাই। না জানাইয়া বন্ধ দিছে। এখন আমরা আইনে যা আছে সেইভাবে পাওনাদাওনা চাইতাছি। আমাগো পাওনাদাওনা দিয়ে দিলে আমরা রাস্তা ব্লক করুম না। গতকালকের ডেট (তারিখ) দিছিল টাকা দেওয়ার। সকাল ৮টা বাজলে গেলাম বেতন দিল না। দেখি ৩ মাস পর বেতন দিব। এইটা মাইনা নেওন যায়?’

    অপর একজন শ্রমিক বলেন, ‘গত মাসে কারখানা বন্ধ ঘোষণার পর বগুড়ায় বাড়িতে চলে গেছিলাম। গতকাল বকেয়া বেতনসহ অন্যান্য বকেয়া পরিশোধ করার কথা ছিল, তাই আসছি। এখন তো বিপদে পড়ে গেছি। থাকব কোথায়, খাব কী। বেতন যা পাই, তাই দিয়া চলতাম। সকালে একটা শিঙাড়া খাইছি শুধু। বেতন দিব না আগে বলত, তাইলে আসতাম না।’

    অবরোধের কারণে নবীনগর থেকে চন্দ্রা ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানজটের কথা উল্লেখ করে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, ‘কেউ কেউ ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে যানজটে আটকে আছেন। শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াটাও এই মুহূর্তে শিল্প খাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সমাধানে জোরালো চেষ্টা চলছে।’

  • খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার পর উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা

    খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার পর উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা

    পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের অভিযোগে এক শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার পর পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে খাগড়াছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আবুল হাসনাত মুহাম্মদ সোহেল রানা নামের ওই শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

    এ ঘটনার পর পাহাড়ি ও বাঙালিরা খাগড়াছড়ি সদরে আবার মুখোমুখি অবস্থান নেন। দুই পক্ষই পৃথক মিছিল বের করে। সদরের মহাজনপাড়ার কয়েকটি দোকানেও ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া একটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর পাহাড়ি–বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত হয়।

    জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান বলেন, এক শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে উত্তেজনা দেখা দেয়। ধর্ষণের অভিযোগে তাঁকে পিটুনি দেওয়া হয়। এরপর বেলা ৩টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

    নিহত শিক্ষক সোহেল রানা প্রতিষ্ঠানটির বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন ও সেফটি বিভাগের চিফ ইনস্ট্রাক্টর ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি সদরের খেজুরবাগান এলাকায়। ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সোহেল রানা কারাগারে ছিলেন। তিন মাস আগে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। এরপর একই প্রতিষ্ঠানে তিনি যেন আবার যোগদান না করেন, সে জন্য শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছিল। এরপর আজ আবার তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল।

    এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্কুলটির শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে সোহেল রানাকে অধ্যক্ষের কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে ১০–১৫ জন পাহাড়ি তরুণ অভিযুক্ত শিক্ষক সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। এ সময় তাঁকে পুলিশসহ কয়েকজন রক্ষা করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রিপল বাপ্পি চাকমা বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তি মারা গেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

    ঘটনার পর দুই পক্ষের উত্তেজিত লোকজন খণ্ড খণ্ড পক্ষে বিভক্ত হয়ে সদরে মহড়া দিতে শুরু করেন। দুই পক্ষে স্লোগান দেওয়া হয়। জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল বাতেন মৃধা প্রথম আলোকে বলেন, ‘উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে গিয়ে আমিও মার খেয়েছি। এখন ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। পরিস্থিতি বেশ উত্তেজনাকর।’

    উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি সদরে মো. মামুন নামে এক যুবককে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মামুনের স্ত্রী হত্যা মামলা করেন পলাতক তিন আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। তবে মামুনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি–বাঙালি সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ১৯ সেপ্টেম্বর দীঘিনালার লারমা স্কয়ারে আগুন দেওয়া হয় দোকানপাটে। সংঘাতে দীঘিনালায় ধনঞ্জয় চাকমা নামের এক ব্যক্তি মারা যান। ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ি সদরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে রুবেল ত্রিপুরা ও জুনান চাকমা নামের দুজন মারা যান। ২০ সেপ্টেম্বর এ ঘটনার জের ধরে রাঙামাটিতে সংঘর্ষ হয়। সেখানে দোকানপাট ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়। অনিক কুমার চাকমা নামের একজন মারা যান। ২০ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। পরে তা তুলে নেওয়া হয়। এসব ঘটনায় দুই জেলায় পাঁচটি মামলা হয়েছে।

  • পঞ্চগড়ে সাবেক মন্ত্রী কামরুলের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা

    পঞ্চগড়ে সাবেক মন্ত্রী কামরুলের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা

    সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও করতোয়া পত্রিকার সম্পাদক মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে পঞ্চগড়ে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা হয়েছে।

    সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের চর এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাধাদানকারী বলে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে গতকাল রোববার মো. ইউনুস শেখ বাদী হয়ে পঞ্চগড় আদালতে এই মামলার আবেদন করেন। দৈনিক করতোয়া পত্রিকায় ওই সংবাদ প্রকাশ করায় সম্পাদককেও আসামি করা হয়েছে।

    আজ সোমবার দুপুরে শুনানি শেষে পঞ্চগড়ের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হাসান মামলাটি সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আদম সুফি মামলাটির বিষয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। মামলার বাদী ইউনুস শেখ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার পঞ্চগড় জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক।

    আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ২১ মে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব কবিতা কণ্ঠ পরিষদের এক সভায় তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি নিন্দা প্রকাশ করে বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের চর ছিলেন। এমনকি জিয়াউর রহমানের কারণেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়াও যুদ্ধাপরাধের বিচারে বাধা সৃষ্টি করেছেন।’ এই বক্তব্য ঘটনার দিন মামলার বাদী শুনেছেন এবং পরদিন দৈনিক করতোয়া পত্রিকায় প্রকাশ হলে তিনি সেখানেও তা দেখে হতবাক হয়েছেন।

    এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ ধরনের অশালীন এবং মানহানিকর কথা বলায় বাদী একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে ও বিএনপি পরিবারের সদস্য হিসেবে মর্মাহত হয়েছেন। এ ছাড়া জিয়াউর রহমান ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রমাণপত্র ছাড়াই দৈনিক করতোয়া পত্রিকার প্রথম পাতায় ৬ নম্বর কলামে জেনেবুঝে মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এতে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তাঁর (বাদী ইউনুস শেখের) ১০০ কোটি টাকার মানহানি ও ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি এই মামলা করেন।

  • ভালুকায় বনের জমি নিয়ে এলাকাবাসীর মুখোমুখি বন বিভাগ

    ভালুকায় বনের জমি নিয়ে এলাকাবাসীর মুখোমুখি বন বিভাগ

    ময়মনসিংহের ভালুকায় বন বিভাগের কার্যক্রমে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। চলমান বনায়ন কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে বন কর্মকর্তাদের অপসারণ ও বিচারের দাবিতে আজ রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গিয়ে বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

    বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভালুকা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ২০০ একর জমি বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি দখল করে রেখেছেন বলে দাবি বন বিভাগের। ওই জমিতে গত ২৬ জুন থেকে গাছ লাগানোর কাজ শুরু করে বন বিভাগ। তখন এলাকাবাসী বন বিভাগকে বাধা দেন। এ নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে বন বিভাগের বিরোধ তৈরি হয়। সম্প্রতি বন বিভাগের করা মামলায় স্থানীয় তিন বাসিন্দা কারাগারে যান।

    এ ঘটনার পর বন বিভাগের হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ঘুষ, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ভালুকার রেঞ্জ কর্মকর্তা হারুন-অর-রশীদ খান ও কাদিগড় বিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন খানের অপসারণের দাবিতে আজ মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। সকালে উপজেলার সিডস্টোর বাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে তাঁরা বিক্ষোভ করেন।

    বন বিভাগের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা একটি কমিটি করেছেন। সেই কমিটির আহ্বায়ক তোফায়েল ইবনে জামালের সভাপতিত্বে ও মঞ্জুর মাহমুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে সাবেক ইউপি সদস্য কামাল হোসেন, আবদুর রউফ, শাহজাহান সিরাজ, আবুল হোসেন মাস্টার, নাসির উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

    বক্তারা বলেন, বন বিভাগের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। সাধারণ মানুষের নামে বিআরএস রেকর্ডীয় জায়গায় বনায়ন বন্ধ করতে হবে। জনগণকে ঘরবাড়ি নির্মাণে হয়রানি করা যাবে না। মিথ্যা মামলা দেওয়া যাবে না। আদালতে চলমান মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বনায়ন করা যাবে না। সীমানা নির্ধারণ করে জনগণকে জমি বুঝিয়ে দিয়ে বন বিভাগের জমি বন বিভাগ বুঝে নেবে। বক্তারা রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তার অপসারণের দাবি জানান।

    সকাল ১০টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভালুকার ইউএনও আলীনূর খান ঘটনাস্থলে যান। তিনি আন্দোলনাকীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন।

    ইউএনও আলীনূর খান বলেন, বন বিভাগ নিয়ে এলাকাবাসীর নানা ধরনের অভিযোগ আছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বনের দাবি করা জায়গা চিহ্নিত করে যেন নিয়ে নেয়। কিন্তু বন বিভাগ দাগ অনুযায়ী সব জমি দাবি করে চিহ্নিত করছে না। তাঁরা বন বিভাগের সঙ্গে বসে যাঁরা অভিযুক্ত নন, যাচাই–বাছাই শেষে মামলা থেকে তাঁদের যেন অব্যাহতি দেওয়া হয়, সেই অনুরোধ জানাবেন।

    বন বিভাগের ভালুকা রেঞ্জ কর্মকর্তা হারুন-অর-রশীদ খান বলেন, বনের জমিতে গাছ লাগাতে গেলে তৎকালীন সংসদ সদস্য এম এ ওয়াহেদের থেকে প্রথমে বাধা আসে। ক্ষমতার পালাবদলের পর গাছ লাগাতে গেলে স্থানীয় লোকজন বাধা দিতে শুরু করেন, গাছ লাগানোর পর উপড়ে ফেলেন। ২ সেপ্টেম্বর পাড়াগাঁও এলাকায় গাছ লাগাতে গেলে তাঁদের তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন, শ্রমিকদের মারধর করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে ৫ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করেছেন। পুলিশ সেটি তদন্ত করছে।

    হারুন-অর-রশীদ খান আরও বলেন, গত ২৬ জুন কাদিগড় জাতীয় উদ্যানের জমিতে লাগানো চারা উঠিয়ে ধান লাগানো হয়। তৎকালীন এমপি ওয়াহেদের প্রভাবে একটি পক্ষ সেটি করেছিল। সেই ঘটনায় মামলা করলে তিনজন গ্রেপ্তার হন। এ খবরে অন্যরাও বুঝতে পারছেন, তাঁদেরও জেলে যেতে হবে। সেই ভয় থেকে তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন। তিনি বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর পরামর্শে কাদিগড় জাতীয় উদ্যানে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে সম্প্রতি একটি সভা করেছিলেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হবে না, বনের নামে নিষ্কণ্টক জমিতে বন বিভাগ গাছ লাগাবে, কেউ বাধা দেবেন না। কিন্তু তাঁরা বনের জমিতে গাছ লাগাতে দিচ্ছেন না। তাঁদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো সত্য নয়।

    বন বিভাগের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে করা কমিটির আহ্বায়ক তোফায়েল ইবনে জামাল বলেন, ভালুকার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের পাড়াগাঁও মৌজায় স্বাধীনতার আগে ও পরে বনের কোনো জমি ছিল না। তবু বন বিভাগ এখানে গাছ লাগাতে আসে। এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে বিবাদ তৈরি হয়। তিনি বলেন, ‘বন বিভাগে অহেতুক মামলা করে হয়রানি করায় কর্মসূচি পালন করা হয়। সরকারি কোনো জমি থাকলেও সেগুলো আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে বন্দোবস্ত চাই। জনগণের যাওয়ার জায়গা নেই।’

  • বন্ধুর ফোন পেয়ে পাওনা টাকা নিতে বের হয়েছিলেন নিহত শাহাদাত

    বন্ধুর ফোন পেয়ে পাওনা টাকা নিতে বের হয়েছিলেন নিহত শাহাদাত

    সাগর নামে শাহাদাতের পুরোনো এক বন্ধু আছে। তাঁকে কিছু টাকা ধার দিয়েছিলেন শাহাদাত। সেদিন সাগরের ফোন পেয়ে পাওনা টাকা নেওয়ার জন্যই দুপুরে বের হয়েছিলেন শাহাদাত। এর পর থেকে মুঠোফোন বন্ধ। পরদিন ফেসবুকে তাঁর লাশ উদ্ধারের ভিডিও দেখে জানতে পারেন শাহাদাত মারা গেছেন।

    চট্টগ্রামে একদল তরুণের হাতে গণপিটুনিতে নিহত শাহাদাত হোসেনের (২৪) স্ত্রী শারমিন আক্তার বলেন কথাগুলো। আজ সোমবার প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হয় তাঁর। শারমিন আক্তার বলেন, ‘আমি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই সময় স্বামীকে হারালাম। আমার স্বামীকে যাঁরা মারল, আমি তাঁদের বিচার চাই।’

    শাহাদাত হোসেনের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠতে পারেননি শারমিন আক্তার। গত শনিবার শাহাদাতকে পিটিয়ে মারার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ২০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শাহাদাতকে উড়ালসড়কের নিচে দুটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় গান গেয়ে তাঁকে মারধর করছেন একদল তরুণ। ভিডিওটিতে মারধরের শিকার ব্যক্তি যে শাহাদাত, সেটি শনিবার রাতে পুলিশকে নিশ্চিত করেছেন শারমিন আক্তার। শাহাদাত ছিলেন ফলমণ্ডি এলাকার ভ্যানচালক।

    শারমিন আক্তার বলেন, ‘সেদিন দুপুরে সাগরের ফোন পেয়েই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন শাহাদাত। সাগর আমাকেও মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। আমি বর্তমানে স্বামীর বাসায় থাকছি না।’

    ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সাগর আছেন কি না, এমন প্রশ্নে শারমিন সরাসরি জবাব দিতে রাজি হননি। তবে সাগর ওই স্থানের আশপাশে প্রায়ই থাকতেন বলে জানান তিনি।

    মো. শাহাদাত হোসেনের পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি থানাধীন পাঁচবাড়িয়া ইউনিয়নের নদনা গ্রামে। স্ত্রী ও মাকে নিয়ে থাকতেন নগরের কোতোয়ালি থানাধীন বিআরটিসি এলাকার বয়লার কলোনিতে। সেখানে সবাই নিশ্চিত করেছেন ভিডিওতে মারধরের শিকার ব্যক্তি শাহাদাত। তবে বর্তমানে তাঁর স্ত্রী সেখানে থাকেন না।

    সোমবার সরেজমিনে বয়লার কলোনিতে দেখা যায়, সেখানে এক কক্ষের একটি ঘরের দরজায় বসে ছিলেন দেলোয়ারা বেগম। দেলোয়ারা বেগমও বলেন, সেদিন তাঁর বন্ধুর ফোন পেয়ে বের হয়েছিলেন শাহাদাত। পরদিন তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। যে বন্ধুর ফোন এসেছিল, সেটি সাগর বলে নিশ্চিত করেছেন দেলোয়ারা বেগম। তবে সাগরের বিস্তারিত পরিচয় সম্পর্কে জানাতে পারেননি তিনি।

    পুলিশ জানায়, মারধরের ঘটনাটি গত ১৩ আগস্ট সন্ধ্যা কিংবা ১৪ আগস্ট রাতের। তবে লাশ ১৪ তারিখ উদ্ধার হওয়ায় পুলিশের ধারণা ১৪ আগস্ট এটি ঘটেছে। সেদিন শাহাদাতের স্ত্রী ও চাচা মো. হারুন হাসপাতালে তাঁর লাশ শনাক্ত করেন।

    লাশ উদ্ধারের পরদিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় মামলা করেন মো. হারুন। সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাহাদাত হোসেনের মাথা, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গান গেয়ে গেয়ে তাঁকে লাঠি হাতে মারধর করতে দেখা গেছে কয়েকজন তরুণ-যুবককে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে স্থানে শাহাদাতকে বেঁধে রাখা হয়েছিল, সেটি চট্টগ্রাম নগরের আখতারুজ্জামান উড়ালসড়কের নিচে ২ নম্বর গেট মোড় এলাকা।

    ভিডিও থেকে কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে বলে জানিয়েছে নগর পুলিশ। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) কাজী মো. তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, এক যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

  • দেশে গাঁজা ও মাদক কারবারের মূলহোতা ছিলেন জয় শীর্ষক দাবিতে কোনো সংবাদ প্রচার করেনি যমুনা টিভি

    দেশে গাঁজা ও মাদক কারবারের মূলহোতা ছিলেন জয় শীর্ষক দাবিতে কোনো সংবাদ প্রচার করেনি যমুনা টিভি

    সম্প্রতি “দেশে গাঁজা ও মাদক কারবারের মূলহোতা ছিলেন, জয়, দাবি গোয়েন্দা পুলিশের।” শীর্ষক একটি দাবি একটি দাবি বেসরকারি ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম যমুনা টিভির তথ্যসূত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

    ফ্যাক্টচেক

    রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, “দেশে গাঁজা ও মাদক কারবারের মূলহোতা ছিলেন, জয়, দাবি গোয়েন্দা পুলিশের।” শীর্ষক তথ্য বা শিরোনামে যমুনা টিভি বা অন্য কোনো সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেনি বরং যমুনা টিভির নামে তৈরিকৃত একটি ব্যাঙ্গাত্মক ফটোকার্ড থেকেই আলোচিত দাবিটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

    অনুসন্ধানের শুরুতে উক্ত দাবির সূত্র ধরে  যমুনা টিভির ফেসবুক পেজওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেল পর্যবেক্ষণ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় মাদক কারবারির সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে গোয়েন্দা বিভাগের সূত্রে প্রকাশিত এমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।

    তবে অনুসন্ধানে Mahdi Mozumder নামক ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২৭ সেপ্টেম্বর “দেশে গাঁজা ও মাদক কারবারের মূল হোতা ছিলেন জয়, দাবী গোয়েন্দা পুলিশের” শীর্ষক তথ্য বা শিরোনামে যমুনা টিভির ডিজাইন সম্বলিত একটি ফটোকার্ড (আর্কাইভ) খুঁজে পাওয়া যায়। তবে, উক্ত ফটোকার্ডটি মজার ছলে তৈরি করা হয়েছে বলে ফটোকার্ডেই উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ফটোকার্ড ব্যতীত শুধু স্ট্যাটাস আকারেও আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়।

    সুতরাং, সজীব ওয়াজেদ জয় মাদক কারবারির সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে গোয়েন্দা বিভাগ ও যমুনা টিভির সূত্রে ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

  • কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া থেকে কেন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা

    কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া থেকে কেন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা

    শিক্ষার্থীরা যাঁরা বিদেশে পড়ার স্বপ্ন দেখেন, তাঁদের তালিকায় প্রথম দিকেই থাকে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের নাম। এর নানা কারণও আছে। কিন্তু এই তিনটি দেশে কমতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। শিক্ষাসংক্রান্ত পোর্টালগুলো এ কথা জানিয়েছে। কেন কমেছে, সেই ব্যাখ্যা করেছে তারা। শিক্ষাসংক্রান্ত পোর্টালগুলোর লিঙ্কডইনের শেয়ার করা তথ্য থেকে এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন ছাপিয়েছে ইকোনমিকস টাইমস।

    স্টাডি পোর্টালগুলো সম্প্রতি লিঙ্কডইনে যেসব গবেষণা প্রতিবেদন ও তথ্য শেয়ার করেছে, তাতে ইঙ্গিত মিলছে যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো (অন্য দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) বিবেচনা করছে। এর অন্যতম কারণটি হলো এসব দেশের অভিবাসন নীতিমালা। অভিবাসন নীতিমালা এ জন্য দায়ী। এ কারণে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার প্রতি কম ঝুঁকছেন শিক্ষার্থীরা অথবা বলা যেতে পারে, তাঁদের কাছে কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

    শিক্ষা পোর্টালগুলোর গবেষণার শিরোনাম ছিল—‘জয়ী ও পরাজিত: যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ নীতিগুলো কীভাবে শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করেছে’। অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের পর থেকে শিক্ষার্থীদের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন কয়েকটি গন্তব্য কীভাবে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের চেয়ে এগিয়ে গেছে, গবেষণায় তা–ও দেখানো হয়েছে। প্রকাশিত গবেষণায় দেখানো হয়েছে, কানাডা ও যুক্তরাজ্যে অন-ক্যাম্পাস ব্যাচেলর ও মাস্টার প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এ বছরের জানুয়ারিতে তরতর করে বাড়ছিল। ফেব্রুয়ারিতে এই শিক্ষার্থী বাড়ার প্রবণতা কমেছে, বিশেষ করে কানাডায় এটা তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে। মার্চে কিছুটা স্থিতিশীলতার লক্ষণ ছিল, পরে আবার কমতে শুরু করে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সামগ্রিক প্রবণতা ছিল নিম্নগামী, অর্থাৎ কমতির দিকে।

    এই সময়, অর্থাৎ এ বছরের জুলাই পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার প্রতি আর্ন্তজাতিক শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বা জনপ্রিয়তা যুক্তরাজ্য বা কানাডার তুলনায় অনেক কম ছিল। ট্রেন্ডলাইনেও এমন ইঙ্গিতই মিলেছে। ২০২৪ সালে প্রথম সপ্তাহের তুলনায় এ বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ায় ২৫ দশমিক ১ শতাংশ ও কানাডায় ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী হ্রাস পেয়েছে।

    যুক্তরাজ্যে সরকার পরিবর্তনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা আশাবাদী

    যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, এটা নানা তথ্যে প্রমাণিত। যাহোক, শিক্ষা পোর্টালগুলোর প্রতিবেদন অনুসারে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যের প্রতি শিক্ষার্থীদের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাইয়ে ভোটের ফলাফলকে (কনজারভেটিদের হারিয়ে ক্ষমতায় লেবার পার্টি) ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশাবাদ লক্ষ করা গেছে।

    যুক্তরাজ্যর সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের প্রশাসনের কারণে যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক ছাত্রদের যাওয়া কমেছিল। কারণ, সে সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নির্ভরশীলদের (স্ত্রী/স্বামী) থাকার অধিকার খর্ব করা হয়েছিল। কনজারভেটিদের সময়ে গ্র্যাজুয়েট রুটে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছিল। এ সুবিধার ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা দুই থেকে তিন বছরের কাজের অধিকার হারাতে বসেছিলেন। বিদেশি শিক্ষার্থী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা স্টেকহোল্ডাররা এখন আশায় আছেন যে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রশাসন এ ক্ষেত্রে নতুন নীতি গ্রহণ করবে।

    অস্ট্রেলিয়ার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শীর্ষ পাঁচ দেশের শিক্ষার্থী ধারাবাহিকভাবে কমেছে। পাঁচটি দেশের মধ্যে, বিশেষ করে ভারত (২৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে) এবং ইরান (১৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে) থেকে কমেছে বেশি।

    যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রেও অবস্থা একই রকমের। নাইজেরিয়া থেকে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে, প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র (৩২ দশমিক ৪) ও পাকিস্তানের ( ৯ দশমিক ৭ শতাংশ) থেকেও কমেছে।

    অস্ট্রেলিয়ার প্রতি পাকিস্তানের শিক্ষার্থীরা গত বছরের তুলনায় কম আগ্রহ দেখিয়েছেন। নাটকীয়ভাবে কমেছে শ্রীলঙ্কা ও নেপালের শিক্ষার্থী। যদিও একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে (৩০ দশমিক ৫ শতাংশ)। আগ্রহ বেড়েছে ভারতেরও। বাংলাদেশের চেয়ে কিছুটা কম চাহিদা ভারতের (১০ দশমিক ৭ শতাংশ)।

  • জাপানে স্কলারশিপ, সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা কাজ, আইইএলটিএসে ৫.৫ হলে আবেদন

    জাপানে স্কলারশিপ, সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা কাজ, আইইএলটিএসে ৫.৫ হলে আবেদন

    সমাজসংস্কার ও নগরায়ণের নেপথ্যে মূল চালিকা শক্তি হলো উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রায়োগিক জ্ঞান। এ দক্ষতার বলে যেকোনো জাতি তাদের ধ্বংসপ্রায় অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত জাপান। যুদ্ধাহত ও দুর্যোগপ্রবণ হওয়ার পরও দেশটি এশিয়ার সর্বোচ্চ স্তরের শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। সংগত কারণেই দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় পড়াশোনার জন্য প্রতিবছর জাপানমুখী হন হাজারো শিক্ষার্থী। চলুন, জাপানে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনপদ্ধতি, স্টুডেন্ট ভিসা, স্কলারশিপ ও অধ্যয়নের খরচ সম্বন্ধে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

    জাপানে কেন পড়তে যাবেন

    শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (এমইএসটি) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত প্রতিটি জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। দেশটির প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক আগে থেকেই জায়গা দখল করে আছে কিউএস ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ শতকে। তার মধ্যে ২৮তম অবস্থানে আছে ইউনিভার্সিটি অব টোকিও এবং ৪৬ নম্বরে রয়েছে কিয়োটো ইউনিভার্সিটি। ওসাকা ইউনিভার্সিটি ও টোকিও ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির র‍্যাঙ্কিং যথাক্রমে ৮০ ও ৯১। বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপান প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে বিখ্যাত সব বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের আবাসস্থল।

    জাপানে উচ্চশিক্ষার পূর্বশর্ত

    এখানকার ইংরেজি ভাষার স্নাতক প্রোগ্রামগুলোয় ভর্তির জন্য টোয়েফেল (আইবিটি) স্কোর ন্যূনতম ৭২ বা আইইএলটিএস ব্যান্ড স্কোর ৫ দশমিক ৫ থাকতে হবে। তবে স্নাতকোত্তরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আরও বেশি স্কোরের দরকার হতে পারে। স্থানীয় ভাষা বাধ্যতামূলক না হলেও জাপানিরা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দোকানপাট ও অফিস সব জায়গায় তাঁদের নিজস্ব ভাষাকেই অগ্রাধিকার দেয়। তা ছাড়া সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধার স্কলারশিপ পেতে হলে জাপানি ভাষা শেখা অপরিহার্য।

    ইজেইউ

    জাপানের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি ছাত্র–ছাত্রীদের ভর্তির পূর্বশর্ত হিসেবে স্কোরটি দেখাতে হয়। ইজেইউ পূর্ণরূপ হলো এক্সামিনেশন ফর জাপানিজ ইউনিভার্সিটি ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস। এখানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষা ও একাডেমিক দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। এ পরীক্ষায় বেশি স্কোর পাওয়ার মাধ্যমে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ পরীক্ষার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে জাপানি ভাষা, বিজ্ঞান, গণিত ও সাধারণ বিষয়। বিজ্ঞান বিভাগটি পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানে বিভক্ত। এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য জুন বা নভেম্বরের মধ্যে জাপানে পৌঁছাতে হবে।

    জেএলপিটি

    এটি হচ্ছে জাপানি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা, যা অধিকাংশ জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ে গৃহীত হয়। এতে রয়েছে পাঁচটি মেধা স্তর, যেখানে সর্বোচ্চ স্তর এন৫ এবং সর্বনিম্ন স্তর এন১ হিসেবে অভিহিত হয়। জাপানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য সাধারণত কমপক্ষে এন২ স্তর থাকতে হয়।

    জাপানের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়—

    কিউএস ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ২০০-তে থাকা ৯ জাপানি বিশ্ববিদ্যালয় হলো: ইউনিভার্সিটি অব টোকিও, কিয়োটো ইউনিভার্সিটি, ওসাকা ইউনিভার্সিটি, টোকিও ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, তোহোকু ইউনিভার্সিটি, কিউশু ইউনিভার্সিটি, নাগোয়া ইউনিভার্সিটি, হোক্কাইডো ইউনিভার্সিটি ও ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটি।

    সর্বাধিক চাহিদার বিষয়গুলো—

    প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা, ডেটা সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কম্পিউটার সায়েন্স, স্থাপত্য, অর্থনীতি, হেলথকেয়ার এবং মেডিসিন ও পরিবেশ বিজ্ঞান।

    জাপানে আবেদনের উপায়—

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত স্প্রিং, সামার ও ফল—এই তিন মৌসুমে ভর্তি নিয়ে থাকে। প্রথমে আবেদন, অতঃপর প্রবেশিকার পরীক্ষা, এই দুই ধাপে পুরো ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

    আবেদন—

    এ ধাপে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হয়। এখানে সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড ও আবেদন ফি পরিশোধ করে আবেদন করতে হয়। এ সময় শুধু গৃহীত কাগজপত্রের ভিত্তিতে আবেদনকারীদের মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে যে বিষয়গুলোয় সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেগুলো হলো—

    • ইজেইউ স্কোর;
    • জেএলপিটি স্কোর;
    • আইইএলটিএস/টোফেল (আইবিটি) স্কোর;
    • এই দ্বিতীয় ধাপে প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ প্রার্থীকে সাক্ষাৎকারের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।
    • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—
      • পূর্ববর্তী শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণস্বরূপ সনদ ও একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট;
      • স্নাতক সনদ;
      • প্রবেশিকা পরীক্ষার স্কোর (ইজেইউ, জেএলপিটি);
      • ইংরেজি প্রোগ্রামের জন্য আইইএলটিএস, টোফেল আইবিটি স্কোর;
      • রিকমেন্ডেশন লেটার;
      • স্টেটমেন্ট অব পার্পাস বা পার্সনাল স্টেটমেন্ট;
      • কমপক্ষে ১ বছরের মেয়াদসম্পন্ন বৈধ পাসপোর্ট;
      • ৪ থেকে ৬টি পাসপোর্ট সাইজের ছবি;
      • টিউশন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ভার বহন করার প্রমাণস্বরূপ আর্থিক নথিপত্র;
      • পেশাগত যোগ্যতার সনদ (এমবিএর ক্ষেত্রে)।

        স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন যেভাবে—

        ভিসা আবেদনে যাওয়ার আগে উপরোক্ত নথিগুলো দিয়ে সার্টিফিকেট অব ইলিজিবিলিটি বা সিওইর জন্য আবেদন করতে হবে। নথিটি মূলত জাপানের আঞ্চলিক ইমিগ্রেশন ব্যুরো থেকে শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়।

        সার্টিফিকেট অব ইলিজিবিলিটি: এই সনদ হলো একপ্রকার যোগ্যতার প্রশংসাপত্র। এটি জাপানে প্রার্থীর অভিবাসনের উদ্দেশ্যকে সুনিশ্চিত করার মাধ্যমে আবেদনকে আরও যৌক্তিক করে তোলে। ইমিগ্রেশন ব্যুরো থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে প্রার্থীকে এই সিওই পাঠানো হয়। এই সিওই ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে তা ভিসার আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

        জাপানের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনের জন্য এই লিংকের ফরমটি ডাউনলোড করে তা পূরণ করতে হবে। তারপর প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র নিয়ে সশরীর কনস্যুলেটর অফিসে গিয়ে আবেদন জমা দিতে হবে। এ ছাড়া জাপানের ভিসা আবেদনের জন্য সরাসরি কোনো অনলাইন পদ্ধতি নেই।

        ভিসার আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—

        • সম্পূর্ণ পূরণকৃত স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনপত্র;
        • অনুলিপিসহ বৈধ পাসপোর্ট;
        • ২টি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (২ ইঞ্চি X ১ দশমিক ৪ ইঞ্চি), যেটি অবশ্যই বিগত সর্বোচ্চ ৩ মাসের মধ্যে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে তোলা হতে হবে;
        • সিওই (জাপানি সরকারি স্কলারশিপপ্রাপ্তদের জন্য প্রয়োজন নেই);
        • জাপানি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তির চিঠি;
        • বিগত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট;
        • আর্থিক সক্ষমতার প্রত্যয়িত নথি: এক বছরের জন্য সর্বনিম্ন ২০ লাখ ইয়েনের (১ জাপানিজ ইয়েন = শূন্য দশমিক ৮৫ বাংলাদেশি টাকা হিসাবে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৬৩ টাকা) ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে;
        • স্কলারশিপ বা স্পনসরশিপ থাকলে তার প্রমাণপত্র;
        • স্বাস্থ্য বিমা: প্রতিবছরের জন্য সর্বনিম্ন ২০ হাজার ইয়েন (১৬ হাজার ৯০৫ টাকা);
        • সিভি বা পোর্টফোলিও;
        • অধ্যয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত অর্থপ্রদানের রশিদ।

          এয়ারলাইনস বুকিং স্লিপ

          সিওইপ্রাপ্তির পর তা আবেদনপত্র ও উপরোক্ত কাগজপত্রের সঙ্গে একত্রে ভিসা আবেদনকেন্দ্রে জমা দিতে হবে। তবে যাওয়ার আগে প্রথম কাজ হলো ভিসা কেন্দ্রের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া।

          সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং ও আবেদন জমা

          আবেদনের যাবতীয় কাগজপত্র জমা ও সাক্ষাৎকারের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হলে এই ঠিকানায় ই-মেইল করতে হবে। ই-মেইলের সংযুক্তি হিসেবে এই ফরমটি পূরণ করে দিতে হবে। জাপানি ভিসা আবেদনকেন্দ্রের ঠিকানা: জাপান দূতাবাস, বাংলাদেশ, প্লট নং ৫ ও ৭, দূতাবাস রোড, বারিধারা, ঢাকা।
          ভিসা কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার সময় রবি থেকে বৃহস্পতিবার যেকোনো দিন সকাল ৯টা থেকে ১০টা ৫০ মিনিটের মধ্যে। প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার চলে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। আবেদনের যাবতীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পর ভিসা অফিস থেকে একটি রসিদ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময় ভিসা সংগ্রহের সময় রসিদটি সঙ্গে নিয়ে আসতে হয়।

          ভিসা প্রক্রিয়াকরণের মেয়াদ, ফি ও ভিসা সংগ্রহ

          সাক্ষাৎকারের দিন থেকে সাধারণত পাঁচ কর্মদিবস পর ভিসা সরবরাহের নিয়ম। তবে সিওইসহ ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিতে ১ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার জন্য ফি ৩ হাজার ইয়েন (২ হাজার ৫৩৬ টাকা) ও ডাবল এন্ট্রির জন্য ৬ হাজার ইয়েন (৫ হাজার ৭২ টাকা)।

          • ভিসাযুক্ত পাসপোর্ট বিতরণের সময় বেলা ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যে। এ সময় পাসপোর্টসহ জমাকৃত সব মূল কাগজ ফেরত দেওয়া হয়।
          • প্রার্থী ভিসা কেন্দ্রে সশরীর উপস্থিত হতে অপারগ হলে তার মনোনীত ব্যক্তিকে পাঠাতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির সঙ্গে আসল প্রার্থীর বৈধ স্বাক্ষরসহ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি চিঠি ও আবেদনের রসিদ থাকা আবশ্যক।

          পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার সম্ভাব্য খরচ

          স্নাতক প্রোগ্রামগুলোতে অধ্যয়ন ফি সাধারণত গড়ে ১২ লাখ ৪০ হাজার ইয়েন থেকে ২৮ লাখ ৩০ হাজার ইয়েন। এ মূল্য প্রায় ১০ লাখ ৪৮ হাজার ১৪৮ থেকে ২৩ লাখ ৯২ হাজার ১৪৬ টাকার সমতুল্য। মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য ব্যয় হতে পারে প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৪৪ লাখ ইয়েন, যা ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৬০১ থেকে ৩৭ লাখ ১৯ হাজার ২৩৮ টাকার সমান। আর পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য খরচ হতে পারে ১৯ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ইয়েন (১৬ হাজার ৬০ থেকে ১ লাখ ১ হাজার ৪৩৪ টাকা)।

          জাপানের জীবনযাত্রায় আবাসনের খরচ শহরভেদে ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। টোকিও শহরে মাসিক বাসাভাড়া গড়ে ১ লাখ ৬৪ হাজার ইয়েন (১ লাখ ৩৮ হাজার ৬২৬ টাকা) এবং ওসাকাতে ১ লাখ ৩৫ হাজার ইয়েন (১ লাখ ১৪ হাজার ১১৩ টাকা)। কিয়োটোতে থাকার জন্য বাজেট রাখতে হবে ১ লাখ ১৮ হাজার ইয়েন বা ৯৯ হাজার ৭৪৩ টাকা এবং ফুকুওকার জন্য ১ লাখ ৫ হাজার ইয়েন তথা ৮৮ হাজার ৭৫৫ টাকা।

          টোকিওর মতো ব্যস্ততম শহরগুলোয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে থাকাটা যথেষ্ট ব্যয়বহুল। অপর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিগুলোয় এক রুমের জন্য প্রতি মাসে দিতে হয় প্রায় ১২ হাজার ইয়েন (১০ হাজার ১৪৩ টাকা)।

          এ ছাড়া বিদেশি ছাত্র–ছাত্রীদের মুদি ও খাবারের জন্য মাসিক বাজেট রাখতে হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার ইয়েন। এই মূল্য প্রায় ২৫ হাজার ৩৫৮ থেকে ৩৩ হাজার ৮১১ টাকার সমতুল্য। স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবাগুলো মাসে ২ থেকে ৩ হাজার ইয়েনের (১ হাজার ৬৯১ থেকে ২ হাজার ৫৩৬ টাকা) মধ্যে পাওয়া যায়। ইউটিলিটির জন্য খরচ সাধারণত প্রায় ১০ হাজার ইয়েন অথবা ৮ হাজার ৪৫৩ টাকা। পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ছাত্রদের জন্য মাসিক পাস ফি প্রায় ৫ হাজার ইয়েন (৪ হাজার ২২৬ টাকা)।

          জাপানে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ

          • জাপানে স্কলারশিপের সুযোগ: স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে যাঁরা ন্যূনতম ৬৫ শতাংশের অধিক ফলাফল নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁদের জন্য জাপানে রয়েছে স্কলারশিপের ব্যবস্থা। পিএইচডি ছাড়াও অন্য পর্যায়গুলোয় বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়নের ওপর এসব স্কলারশিপ দেওয়া হয়।
          • জাপানের সরকারি স্কলারশিপে টিউশন ফি ও রাউন্ড ট্রিপের বিমানভাড়ার পাশাপাশি ১ লাখ ৪৪ হাজার ইয়েনের মাসিক উপবৃত্তি পাওয়া যায়। বাংলাদেশি টাকায় এটি ১ লাখ ২১ হাজার ৭২১ টাকার সমান।
          • জাপান স্টুডেন্ট সার্ভিসেস অর্গানাইজেশন স্কলারশিপের আওতায় রয়েছে ২৭ থেকে ৪২ হাজার ইয়েন (২২ হাজার ৮২৩ থেকে ৩৫ হাজার ৫০২ টাকা) মাসিক উপবৃত্তি।
          • জেটি এশিয়া স্কলারশিপ শুধু মাস্টার এবং ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের ২ বছরের জন্য প্রতি মাসে পরিমাণ ১৫ লাখ ইয়েন (১২ লাখ ৬৭ হাজার ৯২২ টাকা) উপবৃত্তি দেয়।
          • সাতো ইয়ো ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপ পাওয়ার পূর্বশর্ত হলো জাপানি ভাষায় দক্ষ হওয়া। এখানে স্নাতকস্তরের প্রার্থীদের জন্য প্রতি মাসে বরাদ্দ থাকে ১৫ লাখ ইয়েন (১২ লাখ ৬৭ হাজার ৯২২ টাকা)। স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীরা পান ১৮ লাখ ইয়েন, যা প্রায় ১৫ লাখ ২১ হাজার ৫০৬ টাকা।
          • আইচি স্কলারশিপ প্রোগ্রামে অধ্যয়ন ফি ও ভ্রমণ খরচের সঙ্গে থাকে ১৫ লাখ ইয়েনের (১২ লাখ ৬৭ হাজার ৯২২ টাকা) মাসিক উপবৃত্তি।
            খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ
          • জাপানের স্টুডেন্ট ভিসার আওতায় খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ থাকে না। এর জন্য ইমিগ্রেশন অফিসে পৃথকভাবে পার্টটাইম ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে হয়। অবশ্য এর আগের কাজ হচ্ছে ভর্তি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি রেসিডেন্ট কার্ড সংগ্রহ করা। কার্ডটি পরবর্তী সময় খণ্ডকালীন কাজের অনুমতি পাওয়াসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার জন্য প্রয়োজন হয়। পার্টটাইম ওয়ার্ক পারমিটে সেমিস্টার চলাকালীন সপ্তাহভিত্তিতে ২৮ ঘণ্টা এবং ছুটির সময়ে ৪০ ঘণ্টা কাজ করা যায়।

            এসব চাকরির মধ্যে কনভেনিয়েন্স স্টোর স্টাফদের মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ১ হাজার ২০০ ইয়েন (১ হাজার ১৪ টাকা) এবং রেস্তোরাঁ বা ক্যাফে স্টাফদের ১ হাজার ইয়েন (৮৪৫ টাকা)। আইটি সাপোর্ট কর্মীদের পারিশ্রমিক ২ হাজার ৪০০ ইয়েন (২ হাজার ২৯ টাকা) এবং ফুড ডেলিভারিতে পাওয়া যায় ১ হাজার ৫০০ ইয়েন (১ হাজার ২৬৮ টাকা)। গবেষণা সহকারীদের মজুরি ২ হাজার ২০০ ইয়েন (১ হাজার ৮৬০ টাকা) এবং লাইব্রেরি সহকারীদের ১ হাজার ৮০০ ইয়েন (১ হাজার ৫২২ টাকা)।

            এসব চাকরি থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ইয়েন (১ লাখ ৫ হাজার ৬৬০ টাকা) আয় হয়। এগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ আয়ের চাকরি হলো ইংরেজি টিউটর বা ভাষা প্রশিক্ষক, যেখানে ঘণ্টাপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ ইয়েন (২ হাজার ৯৫৮ টাকা) পর্যন্ত উপার্জন করা সম্ভব।

            জীবনযাত্রার খরচ

            জাপানের ব্যয়বহুল শহরগুলোয় থাকার সেরা উপায় হলো পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত জীবন ধারণে অভ্যস্ত হওয়া। এর মধ্যে রয়েছে ছাত্রাবাস বা শিক্ষার্থী বা স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করা থাকা। এতে করে বড় শহরগুলোতে চলাফেরার ক্ষেত্রে মাসিক বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

            নিত্য প্রয়োজনীয় মুদি ও খাবার কেনার জন্য ডিসকাউন্ট স্টোরগুলোয় কেনাকাটা করা উচিত। যেমন ডন কুইজোট (ডনকি) ও ডাইসোর মতো স্টোরগুলোর পণ্য যথেষ্ট সাশ্রয়ী। অনেক রেস্তোরাঁ ও দোকান শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ছাড়ের ব্যবস্থা রাখে।
            যাতায়াতের ক্ষেত্রে গণপরিবহন ব্যবহার করা উত্তম। পাবলিক বাস বা ট্রেনে চলাচলের ক্ষেত্রে মাসিক পাসগুলো বাজেট বাঁচানোর ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক। এ ছাড়া বিভিন্ন উপলক্ষগুলোয় জেআর পাসের মতো ডিসকাউন্ট ভ্রমণ পাস ব্যবহার করা যেতে পারে। দৈনন্দিন অল্প দূরত্বের জায়গাগুলোয় যাতায়াতের জন্য সাইকেল ব্যবহার করাটা দীর্ঘ মেয়াদে লাভজনক হতে পারে।

            জাপানে উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানি ভাষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। পড়াশোনায় স্কলারশিপপ্রাপ্তি এবং পার্টটাইম চাকরির জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ভর্তির অফার পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে ইজেইউ পরীক্ষার উচ্চ স্কোর। এ অর্জন সিওই পাওয়াটাকেও সহজ করে তুলতে পারে, যা কম সময়ে ভিসাপ্রাপ্তির জন্য অতীব জরুরি। সর্বসাকুল্যে, এসব পদক্ষেপ অধ্যয়নের পাশাপাশি এশিয়ার উন্নত জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা পেতে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে।