Month: January 2025

  • লিংকডইনের মার্কেটপ্লেসে নিবন্ধন করেছেন ১ কোটি ফ্রিল্যান্সার

    লিংকডইনের মার্কেটপ্লেসে নিবন্ধন করেছেন ১ কোটি ফ্রিল্যান্সার

    কর্মী ছাঁটাই ও চাকরিজীবীর পছন্দ পরিবর্তন হওয়ায় মুক্ত পেশাজীবী বা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করার প্রবণতা বাড়ছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রযুক্তি খাতে এ বছর এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের অনেকেই আর পূর্ণকালীন কাজে ফেরেননি। তাঁদের অনেকেই পেশাজীবীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনের মার্কেটপ্লেস, ফাইভআর বা আপওয়ার্কের মতো ফ্রিল্যান্স কাজ দেওয়া–নেওয়ার বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের দক্ষতা অনুযায়ী কাজ খুঁজে নিয়েছেন। মাইক্রোসফটের মালিকানাধীন লিংকডইন এবার তাদের লিংকডইন মার্কেটপ্লেসের অগ্রগতি তুলে ধরেছে।

    সূত্র: টেকক্রাঞ্চ ও লিংকডইন

  • হাজার কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ ৩৫ কোটি টাকা

    হাজার কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ ৩৫ কোটি টাকা

    স্টার্টআপ খাতের জন্য ২০২১ সালের মার্চে দুটি তহবিল গঠন করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর তিন বছরে তহবিলে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বেশি জমা হয়। তবে এখন পর্যন্ত স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর মাঝে বিতরণ করা হয়েছে ৩৫ কোটি ২০ লাখ টাকা।

    স্টার্টআপ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে দেশের স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম বাড়াতে পারছে না। অথচ এ জন্য আলাদা তহবিল থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত ঋণ নিতে পারছেন না উদ্যোক্তারা।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, স্টার্টআপ খাতের জন্য ২০২১ সালের ২৯ মার্চ দুই ধরনের তহবিল গঠন করা হয়। এর মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন তহবিল। দ্বিতীয়টি, ৫২টি তফসিলি ব্যাংকের মুনাফার ১ শতাংশ অর্থে গঠিত ব্যাংকগুলোর নিজস্ব স্টার্টআপ তহবিল। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তফসিলি ব্যাংকের মুনাফার অর্থ দিয়ে তৈরি এ তহবিলের মোট আকার দাঁড়ায় ৫০৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। দুটি তহবিল মিলিয়ে মোট অর্থের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার বেশি।

    তহবিল দুটি গঠনের সময় বলা হয়েছিল, ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তহবিলের সব অর্থ বিতরণ শেষ হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে স্টার্টআপদের মাঝে বিতরণ করতে পারবে। কিন্তু নিজস্ব তহবিলের ওই অর্থই ঠিকভাবে খরচ করতে পারেনি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১৫৯টি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের মাঝে নিজস্ব তহবিল থেকে মাত্র ৩৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। সেই হিসাবে স্টার্টআপ খাতের জন্য ৯৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এখনো তহবিলে পড়ে রয়েছে। আর ২০২৪ সালে ব্যাংকগুলোর মুনাফার ১ শতাংশ তহবিলে যোগ হলে এই অর্থের পরিমাণ আরও বাড়বে।

  • ‘আইডিয়া’ প্রকল্প দুর্নীতি-সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব নেই

    ‘আইডিয়া’ প্রকল্প দুর্নীতি-সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব নেই

    তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অধীনে ৪৪২ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে গৃহীত হয় ‘ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ একাডেমি’ বা ‘আইডিয়া’ প্রকল্প। অনুপ্রেরণার নামে প্রকল্প থেকে ২ হাজার ২৩২ জন নারী উদ্যোক্তাকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।

    অনুদানগ্রহীতাদের অনুদানপ্রাপ্তির তিন মাসের মধ্যে অনুদানের অর্থ খরচের হিসাব দেওয়ার বিধান থাকলেও ৮৭২ জন বা ৩৯ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা সেই ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন এখনো জমা দেননি। ফলে অনুদানের ৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা দিয়ে নারী উদ্যোক্তারা কী করেছেন, তার কোনো হিসাব নেই।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের ৪২ জন সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সুপারিশ করে ২৪৪ জন নারীকে অনুদানের অর্থ পাইয়ে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ১৪৯ জন প্রতিবেদন দাখিল করেন। অন্তত ২০টি সরকারি-বেসরকারি সংগঠন ও সংস্থার সুপারিশে বাছাই হন বাকি প্রায় ২ হাজার নারী।

    স্টার্টআপ ও নারী উদ্যোক্তাদের অনুদানের নামে অর্থ হরিলুটের চিত্র তুলে ধরে গত ১২ ডিসেম্বর সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ। এরপর নারী উদ্যোক্তাদের অনুদানের অনিয়মের আরও ভয়াবহ তথ্য আসতে থাকে রূপালী বাংলাদেশের কাছে। ২ হাজার ২৩২ নারী উদ্যোক্তাকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ায় এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ১১ কোটি ১৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। অনুদান পাওয়ার পর ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা ছিল। অনুদানের অর্থ কীভাবে খরচ হয়েছে, সেটিই মূলত নারী উদ্যোক্তাদের জানাতে হয় এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে। প্রতিবেদনের নির্দিষ্ট ফরমে অনুদানপ্রাপ্তিতে ব্যবসায় কী প্রভাব পড়েছে; রেকর্ড খাতা, আয়-ব্যয়ের রসিদ ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের প্রধান বা দায়িত্বরত কর্মকর্তার মূল্যায়ন বা মন্তব্যের মতো তথ্য জানাতে হয়। তবে অনুদান প্রদানের দুই বছর পেরোলেও এখনো সেই প্রতিবেদন দেননি ৮৭২ নারী উদ্যোক্তা। ফলে ৫০ হাজার টাকা হিসাবে ৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা খরচের কোনো হিসাব নেই।

    অনুসন্ধান বলছে, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নেতৃত্বে বিভাগের সাবেক কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা ভুয়া নারী উদ্যোক্তার নামে অর্থ প্রদান করেন। প্রকল্পের সাবেক একটি সূত্রের মতে, পলকের সুপারিশে ও নির্দেশনায় অন্তত ৭০০ নারী উদ্যোক্তাকে যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনুদান দেওয়া হয়। ফলে সাড়ে ৩ কোটি টাকার প্রায় পুরোটাই গেছে পলক সিন্ডিকেটের পকেটে। সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য ছিলেন প্রকল্পের তৎকালীন পরিচালক আলতাফ হোসেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিবেচনা এবং ‘সুসম্পর্কের’ ভিত্তিতে অনুদান প্রদানের কারণে আইসিটি বিভাগের সাবেক প্রশাসন নারী উদ্যোক্তাদের থেকে  প্রতিবেদন সংগ্রহ করতে পারেননি।

    এই চিত্রের সত্যতা পাওয়া যায় অনুদানের সুপারিশ করা ব্যক্তি এবং প্ল্যাটফর্মের তালিকা দেখে। সর্বাধিক ২০টি করে সুপারিশ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু, নূরন্নবী চৌধুরী (ভোলা-৩), রাগেবুর আহসান রিপু (বগুড়া-৬), সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। ১০ জন করে নারীর জন্য সুপারিশ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য আমিরুল আলম মিলন (বাগেরহাট ৪), মাশরাফী বিন মর্তুজা (নড়াইল-২), শেখ হেলাল উদ্দিন (বাগেরহাট-১), হাবিবুন নাহার (বাগেরহাট-৩)।

    বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সুপারিশ করেছেন ১১ জন নারীর জন্য। সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করীম এবং পলক নিজে সরাসরি সুপারিশ করেছেন পাঁচজন নারীর জন্য।

    রাজনীতিকদের তুলনায় পিছিয়ে ছিল না বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্ল্যাটফর্ম। সর্বাধিক ৯৬৩ জন নারী উদ্যোক্তা অনুদান পেয়েছেন পলকের ঘনিষ্ঠ ও নারী উদ্যোক্তাদের অনুদান প্রদানের মাস্টারমাইন্ড নাসিমা আক্তার নিশার ‘উইমেন অ্যান্ড ইকমার্স ফোরাম (উই)’ থেকে।

    ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন জমা না দেওয়া সর্বাধিক নারীও উইয়ের। উই থেকে অনুদান পাওয়া ৪৪৩ নারী ওই প্রতিবেদন এখনো জমা দেননি। ইকমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাবের মাধ্যমে অনুদান পান ৬০ নারী উদ্যোক্তা, যাদের ৩১ জনই এখনো প্রতিবেদন দেননি। ৪৫ জন নারী উদ্যোক্তা বাছাই হয় ‘পল্লীশ্রী উন্নয়ন সংস্থা’ থেকে। এই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পলকের সাবেক এপিএস রনজিত কুমার। ২৯ জন নারী উদ্যোক্তা বাছাই হয় ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনারস অব বাংলাদেশ’ থেকে। এই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মানতাশা আহমেদ সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ছেলে শাহেদ মুহিতের সহধর্মিণী। ১৪৭ নারীকে অনুদান দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ উদ্যোক্তা সংস্থার মাধ্যমে। তাদের মধ্যে ১৩৬ জন নারীই প্রতিবেদন দেননি। প্রকল্প কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না এই সংস্থার প্রতিনিধি মানিক উজ্জামান।

    এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিয়া প্রকল্পের বর্তমান পরিচালক নজরুল ইসলাম দৈনিক নতুন বাংলাদেশকে বলেন, নারী উদ্যোক্তারা অনুদানের জন্য কীভাবে নির্বাচিত হবেন, কোন প্ল্যাটফর্মের মনোনয়নে অথবা নিজস্ব আবেদনে, সে বিষয়ে প্রকল্পের ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। এটাই ডিপিপির দুর্বল দিক। আর এটিকেই কেউ কেউ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। তবে আমরা এখন উদ্যোগ নিয়েছি বিষয়টিকে শৃঙ্খলায় নিয়ে আসার।

  • দুবাইয়ে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের অঢেল সম্পদের সন্ধান

    দুবাইয়ে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের অঢেল সম্পদের সন্ধান

    বাংলাদেশি ধনীদের কাছে দুবাই ভীষণ প্রিয়। অনেকে এটিকে সেকেন্ড হোম হিসেবে আপন করে নিয়েছেন। দুবাইয়ের দ্রুত সম্প্রসারিত আবাসন খাত বাংলাদেশিদের জন্য সম্পদ গচ্ছিত রাখার আকর্ষণীয় জায়গা। এর বড় কারণ হলো—সুউচ্চ ভবন ও পর্যটনের জন্য খ্যাত দুবাইয়ে নগদ অর্থ দিয়ে সম্পত্তি কেনা যায়। এমনকি শীর্ষস্থানীয় আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোও নগদ অর্থে সম্পত্তি বিক্রি করে। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো বারবারই দুবাইকে হুন্ডি লেনদেনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। বিশাল সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক ও বাংলাদেশিদের সেখানে অবস্থান করা এর অন্যতম কারণ। এ ছাড়া, দুবাইয়ে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ডলার বা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশি অর্থ দেশটির সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করলে ‘গোল্ডেন ভিসা’ পাওয়া যায়।

    দুবাইয়ের ভূমি বিভাগের ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, রিয়েল এস্টেট খাতে ২০ লাখ আরব আমিরাত দিরহাম বা তার বেশি দামের সম্পত্তি ক্রয়ে বিনিয়োগকারীদের ১০ বছরের নবায়নযোগ্য রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করার সুযোগ দেয় এই সেবা (গোল্ডেন ভিসা)। স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও পিতামাতাকেও এই ভিসায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়। যদি সম্পত্তিটি বন্ধক থাকে, তাহলে ২০ লাখ দিরহাম পরিশোধের প্রমাণ হিসেবে ব্যাংকের একটি চিঠি জমা দিতে হবে।

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্যাক্স অবজারভেটরির ২০২১ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী, দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন অফশোর সম্পত্তির দাম ২৬ কোটি ডলার বা প্রায় ৩ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী ‘সেকেন্ড হোম’ হিসেবে সিঙ্গাপুরের পর দুবাই হচ্ছে বাংলাদেশি ধনীদের পছন্দের গন্তব্য। তবে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের (সিফোরএডিএস) সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগের এই পরিমাণ অন্তত দ্বিগুণ হতে পারে।

    সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ দুবাই ভূমি বিভাগের ২০২০ ও ২০২২ সালের রেকর্ড ও কিছু ইউটিলিটি কোম্পানির তথ্য পর্যালোচনা করে একটি ডেটাসেট তৈরি করে। এই ডেটাসেটটি ২০২৪ সালের শুরুর দিকে অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টের ‘দুবাই আনলকড’ শীর্ষক বৈশ্বিক তদন্তে ব্যবহার করা হয়। তবে, সেখানে বাংলাদেশের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। এই ডেটাবেস পর্যালোচনা করে যায়, ৪৬১ বাংলাদেশির নামে দুবাইয়ে ৯২৯টি সম্পত্তি নিবন্ধিত রয়েছে। এসব সম্পত্তির মধ্যে ২৫৯টি রাজনীতিবিদ, বড় ব্যবসায়ী ও ব্যাংকারদের নামে নিবন্ধিত।

    এই ৪৬১ জনের নাম ও তাদের সম্পত্তির সংখ্যা ২০২০ ও ২০২২ সালের ডেটা থেকে নেয়া হয়েছে, যা সংগ্রহ করেছে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ। এসব সম্পত্তির মালিকরা এর মধ্যে কিছু সম্পত্তি বেচতে পারেন বা নতুন আরো সম্পত্তি কিনতে পারেন। ভূমি রেকর্ড ব্যবহার করে ৯২৯টি সম্পত্তির মধ্যে ২৭১টির মূল্য বিশ্লেষণ করেছে, যেগুলোর মূল্য সহজে পাওয়া যায়। এই ২৭১টি সম্পত্তির দাম অনুযায়ী মোট ৯২৯টি সম্পত্তির দাম প্রাক্কলন করে দেখা গেছে যে, দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন সম্পত্তির মোট দাম ৪০ কোটি ডলার বা প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

    দুবাইয়ের ভূমি বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি সম্পত্তি কর ও সেবা চার্জ সম্পর্কিত নথি সংগ্রহ করা গেছে, এমন ১৯ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ১৯ জন ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ৮২টি সম্পত্তির কর, সেবা চার্জ ও অন্যান্য নথি সংগ্রহ করা গেছে। সংগৃহীত তথ্য থেকে এসব সম্পত্তির দলিল নম্বর পাওয় যায় এবং দুবাইয়ের ভূমি বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে সেগুলো যাচাই করা হয়েছে। দুবাই আনলকড প্রজেক্টের জন্য ওসিসিআরপি যে পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, সেই একই পদ্ধতিতে ব্যবহার করে এসব সম্পত্তির মালিকানা যাচাই করা হয়েছে।

    এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের ডেটাবেসে অ্যাক্সেস পাওয়ার পাঁচ মাস পর—গত বছরের ডিসেম্বরে—এই ১৯ জন ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে ৮২টি সম্পত্তি তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়েছে। একটি সম্পত্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

    এই ১৯ জনের মধ্যে অন্যতম: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, ঢাকা-১০ আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য এইচবিএম ইকবাল, ঢাকা-১০ আসনের সাবেক বিএনপি সংসদ সদস্য মোসাদ্দেক আলী ফালু, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের স্ত্রী জিসান মির্জা, ব্যবসায়ী নাফিজ সরাফাত, ব্যবসায়ী সায়েম সোবহান আনভীর ও তার ভাই সাফওয়ান সোবহান তাসবীর, ওরিয়ন গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ ওবায়দুল করিম, পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এমএ হাশেমের দুই ছেলে আজিজ আল কাইসার ও আজিজ আল মাসুদ। এ ছাড়া, তালিকায় আছেন শাহাব সাত্তার ও তাসবীরুল আহমেদ চৌধুরী, যারা বন্ধ হয়ে যাওয়া জিএমজি ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের মালিক বা প্রধান ছিলেন। নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত শাহাব সাত্তার ও তাসবীরুল আহমেদ চৌধুরীর কাছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ৭৮৫ কোটি টাকা পাওনা।

    তবে, দুবাইয়ে এসব সম্পত্তি কেনার টাকার উৎস কী, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নিভ। এমনকি বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার করেই এসব সম্পত্তি কেনা হয়েছে, তেমন কোনো প্রমাণও হাতে নেই। বাংলাদেশের কঠোর মুদ্রা নীতি অনুযায়ী, দেশ থেকে মূলধন স্থানান্তর নিষিদ্ধ। তবে, যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব বা বৈদেশিক আয় আছে, তারা বৈধভাবে বিশ্বের যেকোনো স্থানে সম্পত্তি কিনতে পারেন এবং অবশ্যই সেটা আয়কর নথিতে ঘোষণা করতে হবে।

    এই ব্যক্তিরা দুবাইয়ে তাদের সম্পত্তির তথ্য নিজেদের আয়কর নথিতে উল্লেখ করেছেন কিনা, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাঁচ মাস ধরে তদন্তে দেখা যায়, এই ব্যাক্তিদের কেউ কেউ বর্তমানে বা আগে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত। তাদের কেউ আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন, আবার কেউ দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। গত নভেম্বরে এমন অন্তত তিনজন আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন, যাদের সম্পত্তি রয়েছে দুবাইয়ে। অনেকের নামে শত শত কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ না করা ও অন্যান্য আর্থিক অনিয়মের মামলা রয়েছে। আবার অনেকের কোম্পানির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত চলমান।

    দুবাই ভূমি বিভাগের সরকারি রেকর্ড এবং সম্পত্তির প্রতি বর্গফুটের গড় দামের ভিত্তিতে প্রাক্কলন করা হয়েছে যে, এই ১৯ জনের মালিকানাধীন ৮২টি সম্পত্তির মোট মূল্য প্রায় ২৯ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। কিছু ক্ষেত্রে এসব সম্পত্তি পরিবারের সদস্য বা অন্যান্য একাধিক সুবিধাভোগীর নামে রয়েছে। কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের নাম এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হচ্ছে না, কারণ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

    তবে এখনো এমন কোনো প্রমাণ পায়নি যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এই সম্পত্তিগুলো বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকায় কেনা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে এই ১৯ জনের মধ্যে ১৮ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। বাকি একজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে মাত্র পাঁচজন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। তাদের কেউ দাবি করেছেন, বিদেশে আয় থেকে বৈধভাবে এসব সম্পত্তি কিনেছেন। আবার কেউ তাদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

    মন্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তার উত্তর দিয়েছেন- বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক সাফওয়ান সোবহান, ব্যাংকার নাফিজ সরাফাত, স্টার সিরামিকসের চেয়ারম্যান সৈয়দ একে আনোয়ারুজ্জামান, আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ইকরামুজ্জামান, ওরিয়ন গ্রুপের মালিক ওবায়দুল করিম, বাকিরা প্রশ্নের কোনো ধরনের উত্তর দেয়নি কিংবা মোবাইলে বা ইমেইলে তাদের পাওয়া যায়নি। সম্পত্তির তথ্য অনুযায়ী, তাদের পছন্দের জায়গাগুলোর মধ্যে রয়েছে দুবাইয়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এলাকাগুলো। যেমন: বুর্জ খলিফার কাছাকাছি এলাকার সম্পত্তি, যেগুলো শহরের আইকনিক ল্যান্ডমার্ক হিসেবে চিহ্নিত মার্সা দুবাই, দুবাইয়ের অর্থনৈতিক জেলা বিজনেস বে, পারস্য উপসাগরের বিলাসবহুল কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জ পাম জুমেইরা,

    সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের ডেটাবেস অনুযায়ী, দুইজন বাংলাদেশি বুর্জ খলিফা টাওয়ারের ভেতরেও ফ্ল্যাট কিনেছেন। তাদের মধ্যে শুধুমাত্র সায়েম সোবহান আনভীরের নাম প্রকাশ করছেন, কারণ দুবাই ভূমি বিভাগ থেকে শুধুমাত্র তার নথি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। পাম জুমেইরায় সম্পত্তির মালিক ২০ বাংলাদেশির মধ্যে এমন ৮ জন আছেন, যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের মামলা রয়েছে। বুর্জ খলিফা এলাকায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন অন্তত ৬১টি সম্পত্তি রয়েছে। যার মধ্যে ২১টির নিবন্ধন চারজন ব্যক্তির নামে, যাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

    জানা গেছে, এসব সম্পত্তির মধ্যে অনেকগুলো গোল্ডেন ভিসা ব্যবহার করে লেয়ারিং পদ্ধতিতে কেনা হয়েছে। যেমন: বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের ফ্ল্যাটটি তার যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি ওয়ার্ল্ডএরা করপোরেশন এফজেডইর নামে কেনা হয়েছে। কোম্পানিটিতে তিনি পরিচালক হিসেবে আছেন। কোম্পানিটির নথিতে আনভীরকে স্লোভাকিয়ার নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্লোভাকিয়ার গোল্ডেন পাসপোর্টকে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল বলে মনে করা হয়। এর জন্য অন্তত ১০০ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করতে হয়।

    সায়েম সোবহানের ভাই সাফওয়ান সোবহানের ঠিকানা দুবাইয়ের কর্নিশ ১ স্ট্রিটে এমিরেটস হিল থার্ড এলাকায়। তবে, দুবাই ভূমি বিভাগ থেকে এই বাড়িটির মালিকানার তথ্য যাচাই করা যায়নি। যুক্তরাজ্যের কোম্পানি রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশ নয়, সাইপ্রাসের নাগরিক। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে সাইপ্রাসের সংবাদপত্র এলিথিয়ার প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তি সংগ্রহ করেছে, যেখানে তার নাগরিকত্ব ঘোষণা করা হয়।

    আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, একটি কর্মসূচির অধীনে সাইপ্রাস ধনী বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেয়। এর জন্য প্রায় ২০ লাখ ইউরো বা প্রায় ২৫ লাখ ডলার সাইপ্রাসের রিয়েল এস্টেটে এবং আরো ২ লাখ ইউরো সাইপ্রাস সরকারের গবেষণা ও ভূমি উন্নয়ন তহবিলে বিনিয়োগ করতে হয়। ওরিয়ন গ্রুপের ওবায়দুল করিমও দুবাইয়ে সম্পত্তি কিনতে একই পথ অনুসরণ করেছেন বলে মনে হয়। তার নামে দুবাইয়ে যেসব সম্পত্তি নিবন্ধিত রয়েছে, তার কোনোটিই বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে কেনা হয়নি।

    দুবাইয়ের একটি হোটেলের রেজিস্ট্রেশন নথিতে তাকে আলবেনিয়ার নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই হোটেলে তার মালিকানা রয়েছে। আলবেনিয়ার করপোরেট রেজিস্ট্রির রেকর্ডে তার মালিকানাধীন একটি কোম্পানি অ্যাগ্রি প্রোডাক্টস ইউরোপের উল্লেখ রয়েছে, যা ২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিনিয়োগের বিপরীতে গোল্ডেন পাসপোর্ট স্কিমের মাধ্যমে নাগরিকত্ব দিয়েছে আলবেনিয়া।

    বাহরাইনের করপোরেট রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ওরিয়ন ফার্মা বাহরাইনের ৩০ শতাংশ শেয়ার ছিল ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেডের। এই কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে ওবায়দুল করিম ও তার ছেলে ছিলেন। তবে সেখানে তার ছেলেকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ওবায়দুল করিমকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কোম্পানিটি ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়।

    দুবাইয়ের কোম্পানি রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ওবায়দুল করিমের মেয়ে জারিন করিম সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি জেশা জেনারেল ট্রেডিং এলএলসির মালিক, যেখানে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তাকে ডোমিনিকান নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সূত্র ধরে ওবায়দুল করিম ও তার স্ত্রী আরজুদা করিমের ডোমিনিকান পাসপোর্টের একটি কপি হাতে পাওয়া গেছে। যেগুলো ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর ইস্যু করা হয়। ঢাকা বিমানবন্দর সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই পাসপোর্টগুলো আসল।

    ২০২৪ সালে জারিন করিম ডোমিনিকার সম্মানসূচক কনসাল হিসেবে বাংলাদেশে নিয়োগ পান এবং তিনি এখনো এই পদে আছেন। বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়ে শীর্ষস্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের তথ্য অনুযায়ী, ডোমিনিকান রিপাবলিকে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। এর জন্য দেশটির রিয়েল এস্টেট খাতে ২ লাখ ডলার বিনিয়োগ করতে হয় অথবা দেশটির অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ তহবিলে এই পরিমাণ অর্থ দিতে হয়।

    দুবাইয়ে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের অন্তত ৩৭টি সম্পত্তি রয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা। দুবাইয়ে কোনো বাংলাদেশির নামে নিবন্ধিত সর্বোচ্চ সংখ্যক সম্পত্তি তার নামে। এর মধ্যে অন্তত ১০টি সম্পত্তি তিনি কিনেছেন নিজেকে আমেরিকান সামোয়ার নাগরিক দেখিয়ে। আমেরিকান সামোয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঞ্চল, যা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের সাতটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, তার নামে থাকা প্রায় ৫০ কোটি টাকা দামের আরো ১৬টি সম্পত্তি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাতবদল হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ২০২৪ সালে, নয়টি ২০২৩ সালে, একটি ২০২২ সালে এবং দুটি ২০২১ সালে বিক্রি হয়েছে।

    সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের ডেটাবেস অনুযায়ী, এই নামে আরো অন্তত ২৪টিরও বেশি সম্পত্তি রয়েছে। কিন্তু, রেকর্ডে পাসপোর্ট নম্বর ও জন্ম তারিখের মতো অন্য কোনো বিবরণ না থাকায় এটি নিশ্চিত নয় যে, সম্পত্তিগুলো তারই। তার ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনির নামে পাম জুমেইরার গোল্ডেন মাইল ৪-এ দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি ফ্ল্যাট আছে, যার মূল্য আনুমানিক ১০ কোটি টাকা।

  • স্পনসরশিপ বন্ধ করলো কানাডা, নেয়া যাবে না বাবা-মা

    স্পনসরশিপ বন্ধ করলো কানাডা, নেয়া যাবে না বাবা-মা

    কানাডায় দীর্ঘদিন ধরে চলা বাবা-মা ও দাদা-দাদি স্পনসরশিপ কর্মসূচি (পিজিপি) সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় স্থায়ী বসবাসের (পিআর) জন্য বাবা-মা এবং দাদা-দাদিকে দেশটিতে নেয়ার জন্য স্পনসর করতে পারতেন।

    কানাডার অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী মার্ক মিলারের জারি করা এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, বর্তমানে বিদ্যমান আবেদনের ব্যাকলগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নতুন আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বহুল জনপ্রিয় এই কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হবে আবেদনকারীদের।

    কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব (আইআরসিসি) বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরে বাবা-মা এবং দাদা-দাদির স্পনসরশিপ কর্মসূচির (পিজিপি) আওতায় আর কোনো নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

    আইআরসিসি বলেছে, ২০২৪ সালে জমা দেয়া আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াকরণ চালু থাকবে, তবে ২০২৩ সালে নতুন কোনো আবেদন নেয়া হবে না। কানাডার সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে অনেক বাংলাদেশি পরিবার অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছেন। এখন এর পরিবর্তে দেশটিতে বসবাসরত পরিবারগুলো সুপার ভিসা কর্মসূচিকে বিবেচনায় নিতে পারবেন। এই ভিসার আওতায় স্থায়ী বাসিন্দাদের আত্মীয়রা টানা পাঁচ বছর পর্যন্ত কানাডায় বসবাসের অনুমতি পাবেন।

    দেশটিতে অভিবাসীদের সংখ্যা হ্রাসের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আইআরসিসি নতুন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে দেশটিতে ২০২৫ সালে পিআর বরাদ্দের হার ২০ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি বছরের জন্য আইআরসিসির পিজিপি কর্মসূচির আওতায় ২৪ হাজার ৫০০ জনের আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আগামী কয়েক বছরে এই সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাবে বলে জানিয়েছে কানাডার অভিবাসন বিভাগ।

  • ইউরোপের একটি ভিসায় ২৯ দেশ ভ্রমণ

    ইউরোপের একটি ভিসায় ২৯ দেশ ভ্রমণ

    ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দুইটি সদস্য রাষ্ট্র রোমানিয়া এবং বুলগেরিয়া গতকাল পয়লা জানুয়ারি ২০২৫ থেকে শেনজেন এর পূর্ণ সদস্য হিসেবে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। ফলে এখন থেকে কেউ যদি ইউরোপ ভ্রমণ করতে চায় তাহলে একটি মাত্র ভিসা নিলেই ২৯ টি দেশ ঘুরে বেড়ানো সম্ভব হবে পূর্বে যেখানে ছিল ২৭টি।

    শেনজেন হচ্ছে ইউরোপের এমন একটি জোন যেখানে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দেশগুলোর নাগরিকরা পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারে। তাছাড়া বিশ্বের অন্য দেশের নাগরিকগণ একটি মাত্র ভিসার(শেনজেন) মাধ্যমে বর্তমান ২৯ টি দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন। অর্থাৎ উক্ত দেশগুলোর মধ্যে সীমানা পাড়ি দিতে কোন ধরনের বর্ডার চেকিংয়ের মুখোমুখি হতে হবে না।

    বুলগেরিয়া এবং রোমানিয়াকে ১৬ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে এই শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশ করার জন্য। যদিও এই দেশ দুটি ২০০৭ সালেই ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছে। অঞ্চলে প্রবেশের জন্য দেশগুলোকে অনেকে বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়েছে।

    শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশের মাধ্যমে ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সুবিধা গুলির মধ্যে দেশগুলোতে পর্যটনের অনেক বেশি প্রসার ঘটবে তাছাড়া অবাধ বাণিজ্য এবং ভ্রমণের সুবিধা এই দুটি দেশের নাগরিকদের সাথে সাথে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    এ দুটি দেশের শেনজেন অন্তর্ভুক্তি শুধু যে তাদের উন্নয়ন তা নয় ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেন জানিয়েছেন বুলগেরিয়া এবং রোমানিয়ার অন্তর্ভুক্তি এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে আরো বেশি শক্তিশালী করবে এবং ইউরোপিয়ান ঐক্য বৃদ্ধি করবে।

    তবে অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ রাষ্ট্র ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানালেও বেশ কিছু সদস্য রাষ্ট্র এই অঞ্চলে অভিবাসন সমস্যা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তবে নতুন দুটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নাগরিকরা এ বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

    ১৯৮৫ সালে ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড এবং লুক্সেমবার্গ নিয়ে এই সেনজেন অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হয় এর পরবর্তীতে বর্তমান রোমানিয়া এবং বুলগেরিয়া ছাড়াও পূর্বে অস্ট্রিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ক্রোয়েশিয়া, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, গ্রীস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিচেনস্টাইন, লিথুয়ানিয়া, মাল্টা, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্লোভেনিয়া, স্লোভাকিয়া, স্পেন, সুইডেন এবং সুইজারল্যান্ড এই ভিসা মুক্ত অঞ্চলে যোগদান করে।

    রোমানিয়া এবং বুলগেরিয়া বর্তমানে ইউরোপীয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং মানব পাচার ঠেকাতে আরো বেশি হিমশিম খেতে হবে। এই বিষয়টিকে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ভ্রমণকারীদের জন্য অনেক বড় সুযোগও তৈরি হলো।

  • ২০২৪ সালে ৪০ কোটি টাকার বীমাদাবি প্রদান করলো প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসিওরেন্স

    ২০২৪ সালে ৪০ কোটি টাকার বীমাদাবি প্রদান করলো প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসিওরেন্স

    সফলতার ২৫ বছরে পা রাখলো প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানী লিঃ।গতকাল ৬ জানুয়ারি ২০২৫ সালে ২৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদুল আমিন। ৬ জানুয়ারী ২০০০ সালে এই কোম্পানিটির যাত্রা শুরু হয়। ঢাকায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা,আলোচনা,কেক কাটা,দোয়া অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন আয়োজন করা হয়েছে।

    ২৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকার স্কাউট ভবন কার্যালয় থেকে সকাল ১০.৩০ টায় একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। পল্টন এর বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান কার্যালয়ে সমবেত হন প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসিওরেন্স এর কর্মকর্তা কর্মচারীরা। প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানী লিঃ এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদুল আমিন সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন।

    দুপুরে আলোচনা সভায় প্রধান অথিতি হিসেবে ভার্চুয়ালি যোগ দেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এম শোয়েব চৌধুরী।তিনি বলেন, ২৫ বছর আগে যে লালিত স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীরা এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে আমরা তা সমুন্নত রেখে এগিয়ে নিয়ে যাবো।তিনি সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার উপর গুরুত্ত আরোপ করেন।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ড. জামিল শরিফ ও সাবেক উদ্যোক্তা পরিচালক প্রদিপ সেন।

    সভাপতির বক্তব্য মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদুল আমিন বলেন,দেশব্যাপী প্রগ্রেসিভ লাইফ এর ৩২ টি জেলা/বিভাগীয় অফিসে একযোগে আমাদের ২৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হচ্ছে যা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। ২০২৫ সাল প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসিওরেন্স ২৫তম  বছরে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর বছর। দেশের শীর্ষ বীমা কোম্পানিতে পরিণত করারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।তিনি জানান,২০২৪ সালে আমরা প্রায় ৪০ কোটি টাকা বীমা দাবি পুরন করে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। সারা দেশে ১২০০ উন্নয়ন কর্মিকে নিয়োগ দিয়েছি এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করেছি।বীমা খাতে দক্ষ কর্মী তৈরিতে প্রগ্রেসিভ লাইফ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে।

    প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানী লিঃ এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ারদী , সিনিয়ৱ ডিএমডি শাহজাহান আজাদী,কোম্পানি সচিব আব্দুল্লাহ আল মনসুর,সিনিয়ৱ ডিএমডি জসীম উদ্দিন প্রধান সহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

  • ঢাকায় ইন্ডিগো কার্গোর গ্র্যান্ড কাস্টমার ইভেন্ট অনুষ্ঠিত

    ঢাকায় ইন্ডিগো কার্গোর গ্র্যান্ড কাস্টমার ইভেন্ট অনুষ্ঠিত

    এয়ার কার্গো পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিগো কার্গোর গ্র্যান্ড কাস্টমার ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় অংশীদারদের সাফল্য উদ্‌যাপন ও শীর্ষ এজেন্টদের অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

    ইভেন্টটি আয়োজন করে ইন্ডিগো কার্গোর জিএসএ, রেনেসাঁ অ্যাভিয়েশন সার্ভিসেস লিমিটেড। এটি এমজিএইচ গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এতে শীর্ষস্থানীয় লজিস্টিক পার্টনার, এজেন্ট, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের (সিএএবি) প্রতিনিধি এবং বিমান বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

    ইভেন্টে ইন্ডিগো কার্গোর চিফ কমার্শিয়াল অফিসার মার্ক সাচ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিপিন মোহলা এবং এমজিএইচ গ্রুপের সিইও আনিস আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ইন্ডিগো কার্গোর সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।

    মার্ক সাচ বলেন, ‘এই ইভেন্ট আমাদের অংশীদারত্ব এবং যৌথ সাফল্যের উদ্‌যাপন। আমাদের এজেন্টরা সেবার মান উন্নয়ন এবং অপারেশনাল দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

  • ভ্রমণকারীদের জন্য মেডিকেল ডেবিট কার্ড নিয়ে এল ভিসা ও ব্র্যাক ব্যাংক

    ভ্রমণকারীদের জন্য মেডিকেল ডেবিট কার্ড নিয়ে এল ভিসা ও ব্র্যাক ব্যাংক

    ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দেশের প্রথম মেডিকেল ডেবিট কার্ড নিয়ে এল ডিজিটাল পেমেন্টের নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ভিসা। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা খরচে প্রয়োজনীয় অর্থের ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করবে এই কার্ড।

    ২৩ ডিসেম্বরে তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্ড উন্মোচন করা হয়। দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং মো. মাহীয়ুল ইসলাম, ভিসার বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের প্রধান সাব্বির আহমেদ।

    আন্তর্জাতিক খরচের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য জনপ্রতি বাৎসরিক খরচের পরিমাণ বরাদ্দ রয়েছে। সেটি হলো সাধারণ আন্তর্জাতিক খরচের জন্য ১২ হাজার মার্কিন ডলার এবং চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত ১০ হাজার মার্কিন ডলার। তবে চিকিৎসার জন্য এই তহবিল ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা অনেক জটিল মনে হতে পারে। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে নাগরিকদের চিকিৎসা কোটার সহজ ব্যবহার নিশ্চিতে যৌথভাবে এই মেডিকেল ডেবিট কার্ড চালু করেছে ভিসা ও ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি।

    এ বিষয়ে সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশিদের জন্য চিকিৎসা ভ্রমণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির সঙ্গে অংশীদারত্বে দেশে এই প্রথম এমন উদ্ভাবনী পণ্য চালু করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এ দেশের নাগরিকদের চিকিৎসা ব্যয়সংক্রান্ত সব চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে এই কার্ড। যাঁরা চিকিৎসা অথবা অন্য কোনো কারণে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁরা খুব সহজেই এই কার্ডের মাধ্যমে কার্ডের অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন। ডেবিট কার্ডের সুবিধা ও দুটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের আস্থার মাধ্যমে এই সমাধান আমাদের গ্রাহকদের চিকিৎসা ভ্রমণ সহজ করবে।’

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রিপেইড কার্ডের তুলনায় বেশি সুবিধা দেবে এই মেডিকেল কার্ড। সম্প্রতি ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড দেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উদ্ভাবনী এই মেডিকেল ডেবিট কার্ড ভ্রমণকারীদের চিকিৎসা খরচের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে। প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই কার্ডধারীরা সরাসরি তাঁদের ব্যাংক হিসাব থেকে চিকিৎসা, থাকা ও খাওয়ার খরচ বহন করতে পারবেন। এ ছাড়া বিদেশে চিকিৎসা খরচের ওপর ছাড়সহ বিশেষ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

    মো. মাহীয়ুল ইসলাম বলেন, ‘ভিসার সঙ্গে অংশীদারির মাধ্যমে দেশের প্রথম মেডিকেল কোটা ডেবিট কার্ড চালু করতে পেরে আমরা গর্বিত। এটি চিকিৎসার জন্য বিদেশ গমনকারী গ্রাহকদের মেডিকেল বিল দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে আসবে। এই কার্ডটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে গ্রাহকেরা তাঁদের বার্ষিক ট্রাভেল কোটা অক্ষত রেখে বিদেশে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পারেন।’

  • আপনি কি মানুষ হিসেবে টক্সিক? লক্ষণগুলো মিলিয়ে নিন

    আপনি কি মানুষ হিসেবে টক্সিক? লক্ষণগুলো মিলিয়ে নিন

    আমাদের আশপাশে অনেক টক্সিক মানুষ রয়েছে। তারা নিজেরা স্বীকার না করলেও, তাদের আচরণ ও কথায় তা প্রকাশ পায়। জীবনসঙ্গী, বন্ধু কিংবা সহকর্মী টক্সিক তথা বিষাক্ত হলে এর প্রভাব ব্যক্তিগত জীবনে পড়ে। তাদের পছন্দ–অপছন্দ–রুচি সবকিছুরই একটা অলিখিত প্রভাব পড়ে। এই মানুষগুলো আপনাকে পিছিয়ে দেয়। কিন্তু আপনি মানুষ হিসেবে কেমন ভেবেছেন কি? আপনার মধ্যে কি এমন আচরণ রয়েছে সেগুলো আসলে টক্সিক ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য?

    আপনি টক্সিক কিনা যেভাবে বুঝবেন 

    • আপনি কি সঙ্গীকে সবসময় সন্দেহ করেন? তার প্রতিটি কথা, কাজকে নেতিবাচকভাবে দেখেন? তাহলে বুঝে নিন আপনি একজন টক্সিক মানুষ।
    • আপনি যদি সবসময় নিজে বেশি প্রায়োরিটি পেতে চান এবং অন্যদেরকে যথাযথ সম্মান দিতে না চান, তাহলে আপনি একজন বিষাক্ত মানুষ।
    • আপনার সাথে কথা বলে কেউ যদি হালকা অনুভূত না করে, সে যদি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তাহলে বুঝুন আপনি মানুষ হিসেবে খুব একটা সুবিধার নন। কেননা আপনি ক্রমাগত তাকে হতাশা, না পাওয়ার বার্তা প্রকাশ করছেন। এতে তার মধ্যে ‘নেতিবাচক এনার্জি’ প্রবেশ করে।
    • টক্সিক মানুষেরা সাধারণত কোনো কিছুর দায়িত্ব নিতে চান না। তারা দায়ভার অন্যের কাঁধে চাপান। আবার কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেন।  আপনার মধ্যে যদি এ ধরনের মানসিকতা থাকে তাহলে আপনি অবশ্যই নেতিবাচক ও টক্সিক প্রকৃতির মানুষ।
    •  আপনার প্রিয় কাজ যদি সমালোচনা, কথা লাগানো, চরিত্রের বিশ্লেষণ, নেতিবাচক চর্চা ইত্যাদি হয়, তাহলে আপনি সুবিধার নন।
    • টক্সিক মানুষেরা কথা ও কাজ দিয়ে অন্যদের ছোট করেন। কখনো কখনো বেশ পরশ্রীকাতরতায় ভোগেন। এ ধরনের বৈশিষ্ট্য আপনার মধ্যে থাকলে, আপনি একজন বিষাক্ত মানুষ।
    • আপনি যদি অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল না হন, অন্যদের ছাড় দেওয়ার মানসিকতা না থাকে তাহলেও বুঝে নেবেন আপনি একজন টক্সিক মানুষ। এ ধরনের মানুষের সান্নিধ্য মানুষ পছন্দ করে না। বরং এ ধরনের মানুষকে এড়িয়ে চলে সবাই।