গত ২৯-৩০ মে আমেরিকার ভার্জিনিয়াতে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল কবিতা দিলাওয়ারের বিশেষ উদ্যোগে ‘বাংলা সাহিত্য উৎসব ২০২৬’। দূর প্রবাসের মাটিতে আয়োজিত এই মুখর উৎসবে যুক্ত হতে পেরেছিলাম আমি নিজেই।
বাংলাদেশের ভাষা, সাহিত্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার এক প্রাণবন্ত মঞ্চ ‘বাংলা সাহিত্য উৎসব ২০২৬’। ২০২৫ সালের প্রথম আসরের অভাবনীয় সাফল্যের পর, এবারের দ্বিতীয় আসরটি কেবল বইয়ের সীমানায় আটকে ছিল না। এতে যোগ হয়েছিল সাহিত্য প্যানেল, লেখক-সংলাপ, সংগীত, ফ্যাশন, চারুকলা, গল্প বলার সেশন এবং নান্দনিক সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী। উত্তর ভার্জিনিয়ায় এই সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি ছড়িয়ে দেওয়ার অনন্য স্বীকৃতিস্বরূপ ভার্জিনিয়া সিনেট উৎসবটিকে বিশেষ সম্মাননা বা রেজোলিউশনে ভূষিত করেছে।
বাংলাদেশের ভাষা, সাহিত্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার এক প্রাণবন্ত মঞ্চ ‘বাংলা সাহিত্য উৎসব ২০২৬’। ২০২৫ সালের প্রথম আসরের অভাবনীয় সাফল্যের পর, এবারের দ্বিতীয় আসরটি কেবল বইয়ের সীমানায় আটকে ছিল না। এতে যোগ হয়েছিল সাহিত্য প্যানেল, লেখক-সংলাপ, সংগীত, ফ্যাশন, চারুকলা, গল্প বলার সেশন এবং নান্দনিক সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী। উত্তর ভার্জিনিয়ায় এই সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি ছড়িয়ে দেওয়ার অনন্য স্বীকৃতিস্বরূপ ভার্জিনিয়া সিনেট উৎসবটিকে বিশেষ সম্মাননা বা রেজোলিউশনে ভূষিত করেছে।
এই উৎসবের প্রথম দিনটি মুখরিত ছিল পারস্পরিক পরিচয় ও আন্তরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ে। দ্বিতীয় দিনের সূচনা ঘটে বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। আমন্ত্রিত অতিথি ও লেখকবৃন্দ প্রদীপ হাতে মঙ্গল আলো ছড়িয়ে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান। ব্যাকস্টেজে তখন বাজছিল— ‘আমি বাংলায় গান গাই’। গান শেষে ফিতা কেটে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
উৎসবে অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কবিতা দিলাওয়ার, লেখক সাদাত হোসাইন, আনোয়ার ইকবাল, ড. আবদুন নূর, প্রকৌশলী আবু বকর হানিফ এবং সিনেটর সাদ্দাম আযলান সেলিম। এ ছাড়া সম্মানিত গুণীজনদের তালিকায় ছিলেন তারফিয়া ফয়জুল্লাহ, আশরাফ কায়সার, আনিস খান, একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী রোকেয়া সুলতানা ও ইকবাল বাহার চৌধুরী। আমন্ত্রিত অতিথি ও লেখকদের উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।
উদ্বোধনের পর পর্যায়ক্রমে চলতে থাকে কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠ, গান, নৃত্য, নতুন বইয়ের আলোচনা, সাহিত্যিক আড্ডা, গল্পপাঠ ও গভীর জীবনমুখী সাহিত্য আলোচনা।

নিউইয়র্ক থেকে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার ক্লান্তিহীন পথ পাড়ি দিয়ে যখন উৎসবে পৌঁছালাম, তখন চারপাশের আমেজ দেখে মনে হলো প্রবাসের বুকে এ যেন এক টুকরো চেনা বাংলাদেশ! নিউইয়র্ক থেকে ছুটে যাই আমরা ‘প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা’ পরিবার। মেলায় আমরা পেয়েছিলাম প্রথম আলো পরিবারের চমৎকার একটি বইয়ের স্টল। স্টলগুলোতে স্বনামধন্য প্রকাশকদের আনাগোনা মেলা প্রাঙ্গণকে সত্যিকারের একটি সাহিত্য তীর্থে রূপ দিয়েছিল। নতুন ও চমৎকার সব বইয়ের সুবাসে মুখরিত ছিল চারপাশ। সেখানে লেখক, পাঠক আর প্রকাশকদের মধ্যে চলল দারুণ এক মেলবন্ধন—আড্ডা, সেলফি আর নিজেদের পছন্দের বই আদান-প্রদান। একে অপরকে বই উপহার দেওয়া এবং অটোগ্রাফ নেওয়ার সেই চিরচেনা আনন্দ যেন প্রবাসের যান্ত্রিকতাকে একনিমেষে ভুলিয়ে দিল।
সাহিত্যের এই ভারী আড্ডার সমান্তরালে উৎসবের আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিল দেশীয় স্বাদের জিভে জল আনা সব মজার খাওয়া-দাওয়া। এক কাপ গরম চা হাতে নিয়ে চেনা বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, আর সঙ্গে হরেক পদের মুখরোচক খাবার—সব মিলিয়ে আক্ষরিক অর্থেই এটি ছিল মেধা, মনন ও রসনা বিলাসের এক জম্পেশ আয়োজন!
এই উৎসবের সবচেয়ে সুন্দর ও ইতিবাচক দিকটি ছিল—এটি ছিল সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং একটি বিশুদ্ধ সাহিত্য-সংস্কৃতির মুক্ত মঞ্চ। কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ বা স্লোগানের প্রচার এখানে ছিল না। উৎসবের মূল লক্ষ্যই ছিল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলা ভাষা, সাহিত্য এবং বাংলাদেশের গৌরবময় ঐতিহ্যকে অসাম্প্রদায়িক ও সার্বজনীন সুরের মাধ্যমে তুলে ধরা। আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা লক্ষ করলেই বোঝা যায়, সেখানে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ভিড় ছিল না। বরং মঞ্চ আলো করেছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী, শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলীবৃন্দ, জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক এবং দেশ-বিদেশ থেকে আসা নবীন-প্রবীণ কবি ও গল্পকারেরা। এমনকি উৎসবটিকে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নয়, বরং আমেরিকার ভার্জিনিয়ার সিনেট (সিনেট রেজোলিউশন নং ১৬৪) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের।
ভিনদেশের মাটিতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এই জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক—কবিতার সঙ্গে…!
প্রতিনিধির নাম 














